ভারত থেকে আসা ইলিশ যশোরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে

ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ যশোরের বাজারে ‘বরিশালের ইলিশ’ বলে বিক্রি হচ্ছে। রোববার বিকেলে যশোর শহরের বড়বাজারেছবি: প্রথম আলো

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ স্থানীয় বাজারে ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল রোববার যশোরের ঐতিহ্যবাহী বড়বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশের বাজার বেশ চড়া। বাজারে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। আর ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে।

কিছুদিন আগে ভারত থেকে যেসব ইলিশ এসেছে, সেগুলোর চেহারা ও বৈশিষ্ট্যে তফাত আছে। মাছগুলোর পেট বেশ মোটা এবং ডিমে ভরা। দেশি ইলিশের যে স্বাভাবিক স্বাদ ও সুগন্ধ থাকে, এতে তা পাওয়া যায় না।
আলমগীর হোসেন, ইলিশ ব্যবসায়ী

বাজারে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তাদের অভিযোগ, বাজারে এখন যেসব ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তার আকার, স্বাদ ও গন্ধ তুলনামূলকভাবে কম। এসব ইলিশ ভারত থেকে আসছে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এগুলো ‘বরিশালের ইলিশ’ বলে বাজারে বিক্রি করেন বিক্রেতারা।

জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে। ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই ইলিশ আমদানির সঙ্গে যুক্ত।

শেখ আবদুল্লাহ হোসাইন নামের এক ক্রেতা বলেন, যশোরের বাজারে সব ইলিশই বিক্রি হচ্ছে 'বরিশালের ইলিশ' নামে। সেটা হোক ভারত থেকে আসা কিংবা সাগর থেকে ধরা। নদীর ইলিশের দাম বেশি, সুস্বাদুও। এ জন্য ইলিশের ব্যবসায়ীরা বরিশালের নদীর ইলিশ বলে বিক্রি করেন।

আলমগীর হোসেন নামে এক ইলিশ ব্যবসায়ী বললেন, কিছুদিন আগে ভারত থেকে যেসব ইলিশ এসেছে, সেগুলোর চেহারা ও বৈশিষ্ট্যে তফাত আছে। মাছগুলোর পেট বেশ মোটা এবং ডিমে ভরা। দেশি ইলিশের যে স্বাভাবিক স্বাদ ও সুগন্ধ থাকে, এতে তা পাওয়া যায় না।

তবে স্থানীয় বাজারে ভারত থেকে আসা ইলিশ ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে বিক্রির অভিযোগ উঠলেও বড়বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শেখ তা মানতে নারাজ।

যশোর জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে। যার মোট আমদানি মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই ইলিশ আমদানির সঙ্গে যুক্ত।

ঠিক কী কারণে ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
মনিরুল মামুন, যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা

ভারত থেকে ইলিশ আমদানির বিষয়ে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঠিক কী কারণে ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’ তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ভারত থেকে যে ইলিশ বাংলাদেশের রপ্তানি করা হচ্ছে, তা প্রকৃত অর্থে ভারতের সমুদ্রের কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। ভারতের ব্যবসায়ীরা অন্য কোনো দেশ থেকে আমদানি করে সেগুলো বাংলাদেশে রপ্তানি করছে কি না, সেটাও পরিষ্কার না।’