বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ও সিউ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মী সাইফুল ইসলাম সিউয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সোহেল শ্যামকে খবর দেন, তাঁরা গুরুতর আহত একটি ‘চিল’ পেয়েছেন। খবরটি জানার পরই সিউয়ের অন্যতম সদস্য অদ্রি বর্মণ পাখিটি উদ্ধার করতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জেরিন চা-বাগানের পুরান বাড়ি এলাকায় ছুটে যান। পাখিটি উদ্ধার করে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এরপর রেঞ্জ অফিসে যান সিউয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খোকন থৌনাউজম।

মৌলভীবাজার জেলায় পোষা প্রাণীর জন্য পশু চিকিৎসক আছে। কিন্তু বন্য প্রাণীর জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসক নেই।

উদ্ধার করা পাখিটি চিল নয়, এটি ছিল একটি তিলানাগ ইগল। ইগলটির একটি পা অবশ এবং অপর পাটি ছিল ভাঙা। একটি পায়ের মধ্যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকটা মাংস ঝরে গেছে। ইগলটিকে রেঞ্জ অফিসে রেখে পাখি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বন্য প্রাণী বিভাগের লোকজন ও সিউয়ের সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পাখিটির পায়ের ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করা হয়। রাতে রেঞ্জ কার্যালয়ে পাখিটিকে মাংস খাওয়ানো হয়। এদিকে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্দেশে পরদিন (মঙ্গলবার) সকালে আহত তিলানাগ ইগলটিকে মৌলভীবাজার জেলা সদর প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ইগলটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম এবং সিউয়ের সদস্য অদ্রি বর্মণ।

কিন্তু একদল মানুষের এত ভালোবাসা ও চেষ্টার পরও ইগলটিকে বাঁচানো যায়নি। প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ড্রেসিং করার একপর্যায়ে ঈগলটি মারা গেছে।

সিউয়ের সদস্য সোহেল শ্যাম আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আহত পাখির কথা জানার পর সিউয়ের সদস্য অদ্রি বর্মণকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। আমি অসুস্থ থাকায় উদ্ধারে যেতে পারিনি। আমরা ইগলটিকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা করেছি। মৌলভীবাজার জেলায় পোষা প্রাণীর জন্য পশু চিকিৎসক আছে। কিন্তু বন্য প্রাণীর জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসক নেই। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকীছড়া বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারটি বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে চালু করা জরুরি।’

রেঞ্জ কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইগলটিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রাতে মাংস খাওয়ানো হয়েছে। গতকালকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালেই মারা গেছে। দুটি পাই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। একটা পায়ের মাংস খসে পড়েছে। কীভাবে যে আহত হয়েছে জানতে পারিনি। ইগলটিকে বাঁচানোর জন্য সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করেছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন