জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জি এম কাদের) বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে ১২টি। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়েছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এসব মামলা তদন্তাধীন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন জি এম কাদের। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল। এবার মামলার পাশাপাশি নগদ অর্থও বেড়েছে জি এম কাদেরের।
রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন জি এম কাদের। দ্বাদশ ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন। লালমনিরহাট-৩ (সদর) থেকে সপ্তম, নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়ী হন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন, বিধি অনুযায়ী তাঁরা নিজেদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্য হলফনামা আকারে জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশিত হয়েছে।
৭৭ বছর বয়সী জি এম কাদের হলফনামায় নিজের পেশা উল্লেখ করেছেন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসা। স্ত্রী শেরীফা কাদেরকে উল্লেখ করেছেন সংগীতশিল্পী ও ব্যবসায়ী হিসেবে। তবে কোন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী যুক্ত, তা উল্লেখ করা হয়নি।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী, জি এম কাদেরের বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিরোধীদলীয় সংসদ নেতা হিসেবে সংসদ থেকে প্রাপ্ত ভাতা ২ লাখ ১০ হাজার ও শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক জামানত থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার। স্ত্রীর আয় অবশ্য জি এম কাদেরের চেয়ে বেশি। শেরীফা কাদেরের ব্যবসা থেকে আসে বছরে ৬ লাখ এবং শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে পান ৭৯ হাজার ৭৪১ টাকা।
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ
জি এম কাদেরের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার। এর মধ্যে নগদ টাকা ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫। দুই বছর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নগদ টাকা ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩। ওই সময় জি এম কাদেরের ব্যাংকে জমা ছিল ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৩। তা এবার বেড়ে হয়েছে ৩৬ লাখ ৬৪ হাজার ২৭০। তিনি যে গাড়ি ব্যবহার করেন, সেটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৮৪ লাখ টাকা। জি এম কাদেরের সোনা বা মূল্যবান ধাতু আছে ১১ তোলা। ২৫ হাজার টাকা দামের একটি রাইফেল ও ১১ হাজার টাকা দামের একটি পিস্তল আছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের।
শেরীফা কাদেরের অস্থাবর সম্পদ আছে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার। নগদ টাকা দুই বছর আগে ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৩। এবার কমে হয়েছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকা। গতবারের ব্যাংকে জমা ২৮ লাখ ৯ হাজার ৩৫৯ থেকে এবার ৪ লাখ টাকা কমেছে। শেরীফার ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য ৮০ লাখ টাকা। তাঁর সোনা বা মূল্যবান ধাতু আছে ১০ তোলা।
হলফনামা থেকে জানা গেছে, জি এম কাদেরের মোট স্থাবর সম্পত্তি ১ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার। এর মধ্যে লালমনিরহাটে তাঁর ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিসহ সেমিপাকা বাড়ি আছে, যাঁর মূল্য ৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার উত্তরার ৫ কাঠা ৫ ছটাক জমির ওপর নির্মিত চারতলা বাড়ির এক-চতুর্থাংশ তাঁর, মূল্য বলা হয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৪১১ টাকা। ঢাকার কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে তাঁর ফ্ল্যাটের অধিগ্রহণকালের আর্থিক মূল্য বলা হয়েছে ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামাতেও একই তথ্য দিয়েছিলেন জি এম কাদের।
সর্বশেষ জমা দেওয়া আয়কর বিবরণীর তথ্যও হলফনামায় দিয়েছেন জি এম কাদের। সেখানে তাঁর আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯০০ টাকা। আয় ও সম্পদের ওপর আয়কর দিয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ৯৩৩ টাকা। তাঁর স্ত্রীর আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৩ টাকা। আয় ও সম্পদের ওপর প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৮ টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎস হিসেবে আত্মীয়স্বজন বাদে জি এম কাদের গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মইনুল রাব্বী চৌধুরী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নাম উল্লেখ করেছেন।
মইনুল রাব্বী চৌধুরী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্ল্যাপুর) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী। শামীম হায়দার পাটোয়ারী দলের মহাসচিব ও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।