‘ট্রায়াল’ দেওয়ার নামে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে লাপাত্তা, যুবদল নেতা বহিষ্কার
রাজশাহীতে কেনার কথা বলে ‘ট্রায়াল’ দেওয়ার জন্য গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে নগরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ। এরপর বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই নেতাকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।
বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম এস এম সফিক মাহমুদ (তন্ময়)। তিনি মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। অবশ্য সফিক মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে সফিক মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম (মুন্না) ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (নয়ন) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বহিষ্কৃত নেতার কোনো অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে গ্যারেজ মালিকের ভাই মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, নগরের বন্ধগেট এলাকায় তাঁর ভাই নূর আহমদের একটি গাড়ির গ্যারেজ আছে। সেখানে তিনি গাড়ি মেরামতের পাশাপাশি পুরোনো গাড়ি কেনাবেচা করেন। গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে গাড়ি কেনার জন্য গ্যারেজে আসেন যুবদল নেতা সফিক মাহমুদ (তন্ময়)। এ সময় তিনি গ্যারেজে থাকা একটি গাড়ি পছন্দ করেন এবং ছয় লাখ টাকা দাম ঠিক হয়। এরপর সফিক গাড়িটি ‘ট্রায়াল’ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। তারপর আর ফেরেননি। কয়েক দিন পর ফোন ধরলেও গাড়ি দিতে চাননি। মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, তন্ময় বলেছিলেন তিনি যুবদল নেতা। তাঁর কিছুই করা যাবে না।
গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ বলেন, ‘আমি গত ১৪ ডিসেম্বর মহানগরের রাজপাড়া থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু ওসি মামলা নেননি। আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি আমাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে ২২ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করি। বিষয়টি মহানগর বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের জানানো হয়েছে। কিন্তু তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
নূর আহমেদ দাবি করেন, শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে গাড়িটি কিনে বিক্রির জন্য তিনি গ্যারেজে রেখেছিলেন। এ–সংক্রান্ত চুক্তিনামা ও বিআরটিএর সমস্ত কাগজপত্র প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিও তাঁর কাছে আছে। সেই গাড়ি সফিক মাহমুদ নিয়ে গেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সফিক মাহমুদ বলেন, ‘গাড়িটা আমার কেনা। ট্রায়াল দেওয়ার নামে গ্যারেজ থেকে গাড়ি আনার অভিযোগ একেবারেই সত্য নয়।’ গাড়ি কেনার অ্যাফিডেভিট আছে কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘এটা এখনো করা হয়নি।’ বহিষ্কারের বিষয়টি জেনেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দল তো আমাকে শোকজও করেনি। হঠাৎ এটা দেখছি। সমস্যা নাই। আমি সঠিক আছি। সবকিছুই প্রমাণ হয়ে যাবে।’
মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তন্ময়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটি জেনেছি। ইতিমধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে বহিষ্কার করেছে।’