ভোটার বাড়লেও কমেছে ভোটকেন্দ্র 

ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৯৬৫টি। মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম নগরের লাভ লেন এলাকায় অবস্থিত আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসেছবি: সৌরভ দাশ

চট্টগ্রামে এবারের নির্বাচনে গতবারের তুলনায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ১৬ আসনের ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ২৩টি, অর্থাৎ দুই বছর পর হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে ৫৮টি ভোটকেন্দ্র কমেছে।

ভোটকেন্দ্র কমলেও ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। দুই বছরের ব্যবধানে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। তবে ১৬ আসনের মধ্যে ১৫ টিতে ভোটার বাড়লেও একটি আসনে ভোটার কমেছে।

এদিকে নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। বর্তমানে ভোট গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নগর ও উপজেলা আসনগুলোর জন্য পৃথকভাবে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। ব্যালট ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বেড়েছে ভোটার

চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলিয়ে ১৬টি আসন রয়েছে। এসব আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার আছেন ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। ভোটারদের মধ্যে হিজড়া আছেন ৭০ জন।

এবার দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট পোস্টাল ব্যালটে ভোটার আছেন ৯৪ হাজার ৯৪১ জন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-ইপিজেড-পতেঙ্গা) ছাড়া ১৫টি আসনে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি করে ভোটার বেড়েছে ১১টি আসনে। 

সবচেয়ে বেশি ভোটার বেড়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে। এই আসনে বর্তমানে ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। গতবার ছিলেন ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৪১১ জন, অর্থাৎ ভোট বেড়েছে ৪৭ হাজার ৬৪৮টি।

পাশের চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ভোটার বেড়েছে ৪০ হাজার ৪৯৯ জন। এই আসনে বর্তমান ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ২৭৪ জন।

চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের মধ্যে নগর ও নগর-সংলগ্ন আসন রয়েছে ৬টি। জেলায় রয়েছে ১০টি। এবারের নির্বাচনে জেলার আসনগুলোর তুলনায় নগরের আসনে ভোটার বৃদ্ধির হার কম। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে ৩৯ হাজার ১৫৬ ভোটার বৃদ্ধি পেয়ে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯–এ। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে ৬ হাজার ৭৮৭ ও চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী-খুলশী) আসনে ৬ হাজার ৬৪১ ভোটার বেড়েছে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনে ভোটার কমেছে ৬ হাজার ৫৭৪ জন। গতবার ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১ হাজার ৮৫২ জন। এবার ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৭৮।

ভোটার কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ঠিক কী কারণে ভোটার কমেছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে অনেক বাসিন্দা চাকরিসহ নানা কারণে অন্য এলাকায় চলে যান। হয়তো এ কারণে ভোটার কমতে পারে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনে চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেডসহ বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই আসনে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বসবাস।

ভোটার বাড়লেও কেন্দ্র কমেছে

গতবারের তুলনায় এবার ভোটার বাড়লেও চট্টগ্রামে কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে। ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টিতে ভোটকেন্দ্র কমেছে, ১টিতে বেড়েছে। আর ৬টিতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।

এবার সবচেয়ে বেশি ২১টি ভোটকেন্দ্র কমেছে চট্টগ্রাম-৯ আসনে। গতবার ভোটকেন্দ্র ছিল ১৪২টি, এবার কেন্দ্র রাখা হয়েছে ১২১টি। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১১টি, চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে ৯টি করে ভোটকেন্দ্র কমেছে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে ৫টি, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ বোস্তামী) আসনে ৩টি, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ২টি করে, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ১টি করে কেন্দ্র কমেছে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গতবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল। ইভিএমে ভোট নিতে হলে কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি লাগে। কিন্তু এবার ভোট গ্রহণ হবে কাগজের ব্যালটে। তাই কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে।

চলছে প্রশিক্ষণ

এবারের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার।  নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা। নির্বাচনে ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থাকবেন। আর ভোটকক্ষ আছে ১২ হাজার ৬০১টি। 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যে আইনের মধ্যে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এই নির্বাচন সেটি প্রমাণ করার সুযোগ। এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্মরণ করে।