ঝাও হুইয়ান এখন আয়ান ইসলাম, বিয়ে করলেন রংপুরের পীরগঞ্জের তরুণীকে
নিজেকে চীনের নাগরিক দাবি করা এক যুবকের সঙ্গে রংপুরের পীরগঞ্জের এক তরুণীর বিয়ে হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের প্রথমডাঙ্গা গ্রামে তরুণীর মামার বাড়িতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। কনের পরিবারের দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয়েছে।
তরুণীর নাম আবিদা সুলতানা (১৮)। তিনি পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর গ্রামের সোলায়মান মিয়ার মেয়ে। ওই যুবক নিজের নাম ঝাও হুইয়ান বলে জানিয়েছেন। তাঁর বাড়ি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের পিংচাং কাউন্টি এলাকায় বলেও তিনি দাবি করেন। বিয়ের আগে ঝাও হুইয়ান ধর্ম পরিবর্তন করে তাঁর নাম আয়ান ইসলাম রাখেন বলে কনের পরিবার জানিয়েছে।
এদিকে এই বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বরকে দেখতে উৎসুক লোকজন তরুণীর মামার বাড়িতে ভিড় করছেন।
কনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবিদা স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। প্রায় দেড় বছর আগে একটি যোগাযোগ অ্যাপের মাধ্যমে ঝাও হুইয়ানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
কনের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝাও হুইয়ান গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে আসেন। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।
আবিদার বাবা মো. সোলায়মান মিয়া বলেন, ‘দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে পড়ানো হয়েছে।’ আবিদার মা মোছা. লাকি বেগম বলেন, ‘মেয়ের সম্মতি ও পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। চীনা যুবকটি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আয়ান ইসলাম নাম নিয়েছেন বলে আমরা জানি।’
শানেরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘শুনলাম তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরে চীন থেকে তিনি এখানে এসেছেন। আসার পর তাঁদের বিয়ে পড়ানো হয়েছে।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, চীনা নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তাঁকে দেখতে অনেকে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।