দুধকুমার নদে কলাগাছের ভেলায় ভাসছিল শিশুর মরদেহ, সঙ্গে চিরকুট

দুধকুমার নদে কলা গাছের ভেলায় ভাসছিল ভারতীয় শিশুর মরদেহ। চিরকুটে লেখা ছিল শিশুটি সাপে কামড়ে মারা গেছে। লেখা ছিল ঠিকানা। রোববার দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর দুধকুমার নদে
ছবি: প্রথম আলো

কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর ইউনিয়নে দুধকুমার নদে কলাগাছের ভেলায় ভারতের আসাম রাজ্যের এক শিশুর মরদেহ ভেসে এসেছে। আজ রোববার দুপুরে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের গারুহারা ঘাট এলাকায় কলাগাছের ভেলায় শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। শিশুটির মরদেহ ভেলায় ভাসতে দেখে স্থানীয় মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে দুধকুমার নদের পাড়ে লোকজন ভিড় জমান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কলাগাছের কয়েকটি গুঁড়ি ও চাটাই দিয়ে তৈরি ভেলার ওপর একটি শিশুর মরদেহ চাদর, মশারি ও পলিথিনে ঢাকা ছিল। শুধু মুখ খোলা ছিল। ভেলার সঙ্গে একটি চিরকুটে শিশুর ছবি, নাম-ঠিকানা এবং একটি ভারতীয় মুঠোফোন নম্বর লেখা ছিল। চিরকুটে দেওয়া তথ্যমতে, শিশুটির নাম সুমিত দাস। বাবার নাম আকুমনি দাস, মায়ের নাম পদ্মা দাস। বাড়ি ভারতের আসাম রাজ্যের লালবাড়ি এলাকার ডেকাবঘাটে।

যাত্রাপুরের গারুহারা এলাকার কলেজশিক্ষার্থী ফারুক খান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় মানুষেরা নদে একটি ভেলা ভাসতে দেখেন। পরে ভেলার সঙ্গে একটি চিরকুটে দেওয়া নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হয়। অপর প্রান্তে অনকু দাস নামের এক ব্যক্তি নিজেকে শিশুটির মামা পরিচয় দেন। তিনি জানান, ১০ জুলাই সুমিত সাপের কামড়ে মারা যায়। এরপর তাকে কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, ‘শিশুটি সাপের কামড়ে মারা গেছে এবং তার স্বজনেরা ধর্মীয় রীতিতে তাকে ভেলায় ভাসিয়ে দেন বলে জানতে পেরেছি। কেউ ভেলাটি আটকায়নি। দুপুরের দিকে খবর পাই, ভেলাটি ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসছে।’