জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পিরোজপুর জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে তিন সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন। আলমগীর হোসেনকে আহ্বায়ক, গাজী ওয়াহিদুজ্জামানকে সদস্যসচিব ও আবুল কালাম আকন্দকে সদস্য করা হয় ওই কমিটিতে। এরপর গত রোববার দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে জেলা বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে কৃষক দলের জেলা সভাপতি গাজী সালাহউদ্দিন হত্যা মামলা প্রধান আসামি শেখ রিয়াজ উদ্দিনকে। সদস্যসচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামানও ওই হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি।

২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কৃষক দলের জেলা শাখার তৎকালীন সভাপতি গাজী সালাহউদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর দুই দিন আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে পিরোজপুর শহরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাবের সামনে তাঁর ওপর হামলা হয়। সালাহউদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই গাজী গিয়াসউদ্দিন বাদী হয়ে শেখ রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ এনে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

অভিযোগের বিষয়ে শেখ রিয়াজ উদ্দিন ও গাজী ওয়াহিদুজ্জামান দুজনই প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁদের হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছিল।
সদ্য ঘোষিত কমিটির সদস্য সাইদুর ইসলাম বলেন, আহ্বায়ক কমিটিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মানা হয়নি। কমিটিতে অন্তত ১০ জন রয়েছেন যাঁরা ঢাকায় থাকেন। অঙ্গসংগঠনের পাঁচজনকে রাখা হয়েছে। কিন্তু কমিটিতে তাঁদের রাখার নির্দেশনা ছিল না। ঢাকায় ব্যবসা করা ব্যক্তিদের দিয়ে তো পিরোজপুরে আন্দোলন সংগ্রাম হবে না।

জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি কমিটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। যে অবস্থা চলছে তাতে রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, কমিটি দেওয়ার এখতিয়ার কেন্দ্রের। এখানে তাঁদের কিছু করার নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন