কুড়িগ্রামে গুদাম ভেঙে সার নেওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

কুড়িগ্রামে বারবার ঘুরেও সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যান কৃষকেরা। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেফাইল ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগে এক ডিলারের গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহের আশ্বাস দেওয়ার পর এসব সার ফেরত দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গতকাল রোববার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন

উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সভাপতি করে গঠিত কমিটিকে আজ সোমবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

এর আগে গতকাল সকালে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের শাহ আমানত ট্রেডার্সের গুদামের বেড়া ভেঙে কৃষকেরা সার নিয়ে যান। কৃষি বিভাগের হিসাবে, গুদামে থাকা ৩৪২ বস্তা সারের মধ্যে ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ নেওয়া হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সভাপতি করে গঠিত কমিটিকে আজ সোমবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে নেওয়া সার উদ্ধারে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত ১০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া সার কৃষকদের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী বিতরণের কথা বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় ডিলার আজ সকাল পর্যন্ত মামলা করেননি। তবে পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

চাহিদার বিপরীতে সারের সরবরাহ কম

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভূরুঙ্গামারীতে সারের চাহিদা ছিল ৪ হাজার বস্তা। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে এক হাজার ৩২০ বস্তা। সর্বশেষ গত শনিবার ৫০ কেজির ৩৪০ বস্তা সার ডিলারের গুদামে আনা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের সংকট ছিল না। ওই ইউনিয়নের জন্য ৬৮ টন সার বরাদ্দ আছে। নিয়মিত সার উত্তোলন করে সরকারি মূল্যে তা বিতরণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ১৭ টন বা ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল।

আবদুল জব্বারের দাবি, ‘মব’ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

নেওয়া সারের মধ্যে ১০০ বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত কমিটিকে আজকের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অমৃত দেবনাথ, ভূরুঙ্গামারীর ইউএনও

গতকাল বিকেলে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, ইউএনও অমৃত দেবনাথ ও ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ইউএনও অমৃত দেবনাথ বলেন, নেওয়া সারের মধ্যে ১০০ বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত কমিটিকে আজকের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ওই ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত আছে জানিয়ে ইউএনও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সার ডিলার, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।