লাউয়াছড়া উদ্যানের একমাত্র আফ্রিকান টিকওক গাছটি মারা গেছে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে থাকা একমাত্র ‘আফ্রিকান টিকওক’ গাছটি মারা গেছে। অনেক দিন ধরে গাছটির গোড়ায় পচন ধরেছিল। লাউয়াছড়ার ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে বিরল এই গাছ উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল।
সরেজমিনে গতকাল বুধবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, উদ্যানের প্রবেশের রাস্তার ব্রিজের সামনে মৃত গাছটি দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ৮ ফুট গোলাকার ও ৮০ ফুট উঁচু আফ্রিকান টিকওক উদ্ভিদের সব পাতা ঝরে পড়েছে। গাছের গোড়া ও অন্যান্য জায়গায় পচন দেখা দিয়েছে। গাছের ওপরের দিকে শুকনো ডালে লতাজাতীয় গাছ ও অর্কিড বাসা করেছে।
ট্যুর গাইড শ্যামল দেববর্মা বলেন, গবেষক ও পর্যটকদের অনেকে লাউয়াছড়ায় এলে গাছটির খোঁজ করতেন। গাছটি মারা যাওয়ায় তাঁর খারাপ লাগছে।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এই আফ্রিকান টিকওক গাছটি এখন একেবারে অস্তিম অবস্থায় আছে। বহু দিন ধরেই গাছটি রোগে-শোকে আচ্ছন্ন। গাছটি প্রায় শতবর্ষী। এর মধ্য দিয়ে দেশে বেড়ে উঠা একটি বিদেশি প্রজাতির গাছের মৃত্যু হলো। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি ১০০ বছর আগে গাছটি এখানে রোপণ করা হয়েছিল। সম্ভবত ব্রিটিশরা এখানে গাছটি এনে রোপণ করেছিল। বাংলাদেশে আর কোথাও এই গাছের খোঁজ পাওয়া যায়নি।’
আফ্রিকান টিকওক গাছটি দুই কারণে মারা যেতে পারে বলে রেজাউল করিম চৌধুরী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গাছটি বজ্রপাতে কিংবা এর জীবনকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় মারা গেছে। অনেক আগে গাছটির গোড়ায় পচন ধরেছিল। মানুষের মতো গাছও একসময় মারা যায়।
এই বন কর্মকর্তা বলেন, ‘গাছটি মারা যাওয়ায় খারাপ লাগছে এই ভেবে যে বন থেকে একটি প্রজাতি চলে গেল। কিন্তু অন্যভাবে চিন্তা করলে এটি ভিনদেশি গাছ; এটি আমাদের জীববৈচিত্র্যকে ফুল–ফল দিয়ে যতটা সাহায্য করতে পারে, তার চেয়ে আমাদের দেশি গাছ বেশি সাহায্য করে। গাছটি বেঁচে থাকলে হিসাবের খাতায় গাছের একটি প্রজাতির সংখ্যা বেশি থাকত, তবে গাছটি আকাশমণি কিংবা ইউক্যালিপ্টাসের মতোই একটি ভিনদেশি গাছ। এর ফলমূল প্রাণীরা খেতে পারে না। কাজেই এখানের বন্য প্রাণী এই গাছ থেকে তেমন সুবিধা পায়নি।’ এই গাছের টিস্যুকালচার করে কিছু চারা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা সফল হতে পারেননি বলে তিনি জানান।