পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সাতটার দিকে স্থানীয় এক নারী টাঙ্গন সেতু এলাকায় গরু চড়াতে যান। এ সময় তিনি সেতুর নিচে একটি বস্তা দেখতে পান। সন্দেহ হলে কাছে গিয়ে বস্তার ভেতর থেকে দুই পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ওই ছাত্রীকে দেখতে পান। পরে এলাকার লোকজন তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের এক মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী বলে শনাক্ত করেন।
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রকিবুল আলম বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ওই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার শরীরে মারধরের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তির আগে ফিরোজা নামের এক নারীকে বাসা ভাড়া দিয়েছিলাম। ফিরোজা সে সময় আমার মেয়ের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। আর সেই ছবি নিয়ে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালায় এলাকার একদল যুবক। তাদের হাত থেকে রক্ষায় গত ১৬ জুন মেয়েকে ঠাকুরগাঁওয়ের খাতুনে জান্নাত কামরুন্নেসা কওমি মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিই। তার সন্ধান নিয়ে ওই যুবকেরা মাদ্রাসা থেকে আমার মেয়েকে বের করে আনে।’

খাতুনে জান্নাত কামরুন্নেসা মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত আলী বলেন, ওই মেয়েটি তার মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় অন্যদের মতো ঘুম হতে ওঠে বলে তার সহপাঠীরা জানায়। এরপর তার সঙ্গে আর কারও দেখা হয়নি।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি ওই ছাত্রীর সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে কথা বলেছি। সে জানিয়েছে, মধ্যরাতে কয়েকজন যুবক তাকে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে বের করে আনে। পরে তারা তাঁকে বস্তায় ভরে সেতুর নিচে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনার তদন্ত চলছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন