ঝিনাইদহে ভোট চাওয়ার নাম করে বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির অভিযোগ

ডাকাতিপ্রতীকী ছবি

ঝিনাইদহ শহরতলির বাড়িবাথান গ্রামে ভোটের প্রচারের নামে বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বাড়িবাথান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল রাতের দিকে এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগী মো. রওশন আলী লস্কর বাড়িবাথান গ্রামের মৃত আবদুল গনির ছেলে। রওশন আলীর বাড়ি রাস্তার পাশেই। তাঁর মা আছিয়া বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রাস্তার পাশে বাড়ির দরজায় কয়েকজন লোক টোকা দিতে থাকে। আমি এগিয়ে কারা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, ‘‘আমরা ভোট চাইতে এসেছি।’’ তখন আমি বলি, বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। তারা বলে, শুধু মার্কা দেখিয়েই চলে যাবেন। তখন ৬ ও ৪ বছর বয়সী দুই নাতিকে নিয়ে দরজা খুলে দিই। তারা জোর করে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে আমার দুই নাতির মাথায় অস্ত্র ধরে। তাদের মুখে টেপ মেরে ধরে রাখে। আমার ঘাড়ে ধারালো দা ধরে রাখে। আমার মুখে টেপ মারার চেষ্টা করে। এ সময় আমার পুত্রবধূ এগিয়ে এলে তার ঘাড়ে আঘাত করে গলায় ধারালো দা ধরে রাখে।’

পরিবারের সদস্যরা বলেন,ডাকাতেরা বাড়ির উত্তর দিকের ঘরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙে তিন ভরি সোনার গয়না ও নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে চলে যায়। তারা সবাই ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ছিল। তারা একটি মোটরসাইকেলে করে এসেছিল। তাদের দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

রওশন আলী বলেন, স্থানীয় বানিয়াকান্দর জামতলা বাজারে রওশন ট্রেডার্স নামে তাঁর একটি সার ও কীটনাশকের দোকান রয়েছে। তিনি দোকানেই ছিলেন। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয়, বাড়িতে ভোট চাওয়ার নাম করে কয়েকজন প্রবেশ করে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। খবর শুনে তিনি বাড়িতে যান। বাড়িতে তাঁর মা, স্ত্রী, ছোট ছোট তিন ছেলে থাকে। ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো বয়স্ক পুরুষ মানুষ ছিলেন না। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, সন্ধ্যার পরপরই ভোট চাওয়ার নাম করে এমন ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, ঘটনা শোনার পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।