নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক রেজাউল খান (৪৬) বলেন, ‘আজ সকাল থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। মঞ্চ দাঁড় করানোর জন্য খুঁটির কাজ চলছে।’

নির্মাণকাজের তদারকি করছিলেন মঞ্চ নির্মাণ উপকমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রশিদুল ইসলাম ওরফে লিটন। তিনি বলেন, ‘গতকাল সোমবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ বরাদ্দ পাওয়ার পর আমরা আজ সকালে কাজ শুরু করেছি। বিএনপির নেতা-কর্মীরা কমবেশি সবাই এসে তদারক করছেন। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতাও পাচ্ছি। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিয়মিত থাকছেন।’

ফরিদপুরের আগে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশালে বিএনপির পাঁচটি বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সমাবেশগুলোর দু-এক দিন আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ফরিদপুরে সমাবেশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেল।
সকাল থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে আসা-যাওয়া করছেন বলে জানা গেছে। মাঠে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে।

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সমাবেশস্থল পরিদর্শনে আসেন ফরিদপুরে বিএনপির সমাবেশের সমন্বয়কারী ও দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। এ সময় তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসভাপতি এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জহিরুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান ও সেলিমুজ্জামান, কেন্দ্র্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় মহিলাদলের যুগ্ম সম্পাদক নায়াব ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।

রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুনতে পারছি, ১১ ও ১২ নভেম্বর ফরিদপুরের সব  আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে এসব বিষয় নিয়ে আমরা মোটেও ভাবছি না। এই মাঠের আশপাশে অনেক ছোট ছোট মাঠ আছে। আশপাশে নেতা-কর্মীদের বাড়িতে ও মাঠে তাঁবু টানিয়ে নেতা-কর্মীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

এর আগে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন। ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা, নিরাপত্তা ও ট্রাফিক দায়িত্ব নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ কাজ করছে। সমাবেশের দিন সমাবেশস্থলের চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি বর্তমানেও সমাবেশস্থলে পুলিশি টহল চলছে।