একটা গুমের অভিযোগ এসেছে, সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে: বাগেরহাটে আইনমন্ত্রী
বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের এখানে একটা কেস স্টাডি এসেছে, সারা বাংলাদেশের মধ্যে মিরাজ শেখের কেস স্টাডিটা। একটা গুমের অভিযোগ এসেছে। এটাও আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এর তদন্তকাজ আমরা অব্যাহত রেখেছি।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে মিরাজ শেখ নিখোঁজ আছেন। ঘটনাটি ৫ আগস্ট–পরবর্তী দেশের প্রথম গুমের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
মিরাজ শেখের পরিবার ন্যায়বিচার বঞ্চিত হোক চান না উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁরা এটার প্রতিবাদ করতে যেয়ে সরকারি স্থাপনাতে ভাঙচুর করেছিলেন। তার কারণে মামলা হয়েছিল, তাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ওই পরিবারকে আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইড ইউনিটের অধীনে আমরা সহযোগিতা দিয়েছি। মিরাজ শেখের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জামিন করিয়েছে। তাঁর বোন এখানে উপস্থিত আছেন। মামলা মামলার গতিতে চলবে। আমরা মানুষের পাশে সেবা দিতে চাই, আইনি পরিকাঠামোর মধ্য থেকে। জামিন দেওয়া, না দেওয়া আদালতের ব্যাপার। যেখানে যদি মব জাস্টিস করে, কোনো জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বা জামিন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয় তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আওয়ামী সরকারের সময়কার গুম ও ক্রসফায়ারের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গেল ১৭ বছর বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে, মানুষকে ধরে নিয়ে যেয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ক্রসফায়ার। গুম করেছে, বিএনপি করার কারণে, জামায়াত করার কারণে। ৬০ লক্ষের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছে, যার ৯৯ শতাংশের ক্ষেত্রে বাদী হয়েছিল পুলিশ। এই সময় এসে পুলিশ বাদী হয়ে হয়রানি করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা—এই সংস্কৃতি আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। ক্রসফায়ার আমরা শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছি।’
সভায় বাগেরহাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কয়েকটা মার্ডার হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাঁকে আইনের আওতায় আনার জন্য। তিনি (অপরাধী) যত শক্তিশালী হোন কেন, বিএনপির কোনো শন্তিশালী নেতা যদি তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করেন, তাঁর ব্যাপারেও আপনারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) জিরো টলারেন্স নীতি দেখাবেন। খুন করে বাইরে ঘুরে বেড়াবে, আর জনগণ বলবে, খুন করলেও কিছু হয় না, পুলিশের হাত এখনো এত দুর্বল হয়নি। আইন আইনের গতিতে চলবে।’
মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। এখানে আমাদের জিরো টলারেন্স। যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকেন, তাঁকেও আমরা সতর্ক করছি। মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি প্রতিরোধে শুধু ডিসি, এসপি কিংবা রাষ্ট্রের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবার একসাথে কাজ করতে হবে।’
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলিম, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন প্রমুখ অংশ নেন।
এর আগে আইনমন্ত্রী সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিকেলে তিনি জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।