নওগাঁয় দম্পতির মরদেহ উদ্ধার, বিষক্রিয়ার সন্দেহ পুলিশের
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে নিজেদের ঘর থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিষক্রিয়ার কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
এই দুজন হলেন লোকমান মণ্ডল (৪৭) ও তাঁর স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪১)।
পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোকমান-দেলোয়ারা দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁরা মা–বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন। আজ ভোর চারটার দিকে লোকমানের ছেলে মুক্তার হোসেন নিকটাত্মীয়দের ফোন করে জানান, তাঁর মা–বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
পরে লোকমান ও দেলোয়ারার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হয়। প্রতিবেশীরা এসে খাটের ওপর তাঁদের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আজ সকাল ১০টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, এই দম্পতির ছেলে মুক্তার হোসেন মাদক ও অনলাইনে মোবাইলভিত্তিক জুয়ায় আসক্ত। মাদক ও জুয়ার জন্য টাকা চাওয়া নিয়ে প্রায়ই মা–বাবার সঙ্গে তাঁর বিরোধ হতো। তিনি একাধিকবার মা–বাবাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। নেশার টাকা না পেয়ে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে তিনি মা–বাবাকে হত্যা করতে পারেন বলে তাঁদের ধারণা।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে লাশের বাহ্যিক লক্ষণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত কিছু খাওয়ার ফলে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ওই দম্পতির মেয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
কারও নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়নি জানিয়ে ওসি ওমর ফারুক বলেন, স্থানীয় লোকজন এই দম্পতির ছেলের বিরুদ্ধে অনেক কথাই বলছেন। তবে যেহেতু মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত নয়, তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে তদন্তে ছেলে বা অন্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।