পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক অবরুদ্ধ, পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধার

যৌন নিপীড়নপ্রতীকী ছবি

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। রোববার সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত বোদা উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে বেলা তিনটার পর পুলিশ এসে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে বোদা থানায় নিয়ে যায়। এ সময় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম, বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানাসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টার দিকে ভুক্তভোগী চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তার ছোট বোনকে স্কুলে দিতে আসে। তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে প্রাক্‌-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পড়া দেখিয়ে দিতে বলেন। কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক সেখানে গিয়ে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ। পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয় কয়েকজন বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষককে পিটুনি দিয়ে অফিস কক্ষে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ধীরে ধীরে লোকসমাগম বাড়তে থাকে এবং বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বাইরে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে বোদা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বেলা তিনটার দিকে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে ওই শিক্ষক খারাপ আচরণ করেছেন। এখন বাচ্চাটা কথাই বলতে পারছে না। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
বোদা থানার ওসি সোয়েল রানা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ওই প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ইউএনও রবিউল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আগেও তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল বলে জেনেছেন। তিনি অভ্যাসগত অপরাধী বলে মনে হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়া চলছে।