রণদাপ্রসাদ সাহা বাড়ির পূজামণ্ডপে মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা
শারদীয় দুর্গাপূজার নবমীতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা বাড়ির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মণ্ডপ পরিদর্শনে আসা কূটনীতিকদের মধ্যে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তৃষিতা মওলা, ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূত কেভিন এস র্যান্ডেল।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, ‘পূজার আনন্দ সবার। পূজার সময় আলাদা একটা পরিবেশ থাকে। এই পরিবেশ যেন সব সময় থাকে, সেটা আমরা কামনা করি।’
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, ‘মানবসেবাই হচ্ছে আসল ধর্ম। কুমুদিনী (কল্যাণ ট্রাস্ট) তার বড় উদাহরণ। তারা এত বড় হাসপাতাল এখনো রেখেছে। সেখান থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’
সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে নিয়ে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক মহাবীর পতি। সেখানে হাইকমিশনার কুমুদিনী লাইব্রেরি ঘুরে দেখেন। পরে তিনি লৌহজং নদের উত্তরপাড় থেকে বজরা নৌকায় করে দক্ষিণপাড়ে রণদার বাড়ির আঙিনায় পূজামণ্ডপে যান। সেখানে কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা তাঁকে স্বাগত জানান। দীনেশ ত্রিবেদী মণ্ডপের আঙিনায় উঠে দুর্গার প্রতিমাকে ভক্তি করেন। এরপর ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় আরতি উপভোগ করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক শম্পা সাহা, কুমুদিনী হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া আমেরিকান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তৃষিতা মওলা, ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূত কেভিন এস র্যান্ডেল, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার এবং টাঙ্গাইল কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন করেন মন্ত্রী আবদুল মঈন খান
সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন। আবদুল মঈন খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রাজীব প্রসাদ সাহার হাতে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা হিসেবে ফুলের তোড়া তুলে দেন। এ সময় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও আরতি উপভোগ করেন।
আরতি শেষে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ভারতের হাইকমিশনার ও অন্য অতিথিরা ছবি তোলেন। পরে সবাই রণদার বাড়িতে নৈশভোজে অংশ নেন তাঁরা। নৈশভোজ শেষে মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কুমুদিনী পরিবারের সঙ্গে আমাদের সবার একটি বন্ধন রয়েছে। আর এখানকার পূজামণ্ডপের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। যে কারণে আমরা প্রতিবছর এখানে আসি।’