পুলিশ জানায়, দুপুরে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও দুই মেয়েকে নিয়ে অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন জহিরুল। বেলা দেড়টার দিকে তাঁরা উপজেলার ভৈরব নদের নগর খেয়াঘাট পার হয়ে চাঁপাতলা গ্রামে পৌঁছান। তখন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা–কাটাকাটি চলছিল। চাঁপাতলা গ্রামে একটি কলাবাগানের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন জহিরুল। এরপর লাশ বাগানে ফেলে রেখে বাড়িতে চলে যান তিনি।

বাড়িতে ফিরে স্বজনদের কাছে স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যার কথা জানান জহিরুল। বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁর স্বজনেরা সদর উপজেলার বসুন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ফাঁড়ি থেকে পুলিশ গিয়ে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে। রাত আটটা পর্যন্ত লাশ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।

জহিরুলের শ্বশুর মুজিবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাসখানেক আগে আমার মেয়ে সাবিনা দুই নাতনিকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। আজ জামাই জহিরুল তাঁদের নিতে আসে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা আমাদের বাড়ি থেকে রওনা দেন। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে বেয়াই ফোন দিয়ে জানান, ছেলেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছি, আপনারা চলে আসেন। এরপর জানতে পারি, মেয়ে ও দুই নাতনিকে খুন করেছে জামাই।’

মজিবর রহমান আরও জানান, ১৩ বছর আগে জহিরুলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ লেতেই থাকত। আজও তাঁদের বাড়িতে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। এরপর তাঁরা বাড়ি থেকে রওনা দেন।

বসুন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জহিরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন এবং দুই মেয়ে সুমাইয়া ও সাফিয়াকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে অভয়নগর থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাত আটটার দিকে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শামীম হাসান প্রথম আলোকে বলেন, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন জহিরুল। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জহিরুলকে নিয়ে লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন