ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের করিডরে ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ এবং এর পরবর্তী ঘটনাগুলো তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে আছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। কমিটিকে সুষ্ঠু তদন্ত করে আজ রোববার থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম মতিনুর রহমান গতকাল রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হলের প্রভোস্টও আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। তদন্তের মাধ্যমে যাঁরা দোষী, তাঁদের চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’
ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা যাতে কোনোভাবে প্রবেশ করতে না পারেন, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য এ কে এম মতিনুর রহমান।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে দুজন আহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতের কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হন। সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত দুজনের মধ্যে একজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাতে মাইকিং করা হয়। একই সঙ্গে হলগুলোয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে বলা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের করিডরে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক নেতা থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রধান ফটকের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
আহত দুজনের মধ্যে একজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তবে সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি।