ঘাটের কাছে এসে স্রোতের তোড়ে ভেসে গেল যানবাহনবোঝাই ফেরি, ৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন বোঝাই রো রো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছার আগমুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। মুহূর্তেই স্রোতের তোড়ে ফেরিটি প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যায়। চার ঘণ্টা পর আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে ফেরিটি উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে পাটুরিয়ার ২ নম্বর ঘাট থেকে আটটি যাত্রীবাহী বাস, চারটি পণ্যবাহী ট্রাক, তিনটি ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার), তিনটি ছোট গাড়িসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। ফেরিটি দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছার আগেই তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। গতি ঠিক রাখতে না পারায় মুহূর্তের মধ্যে ফেরিটি স্রোতের টানে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যায়। উপায় না পেয়ে ফেরিটি সেখানে নোঙর করতে বাধ্য হয়। এ সময় ফেরিতে থাকা ১৮টি যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে উদ্ধারকারী একটি জাহাজ ও অপর একটি বড় ফেরির সহায়তায় বেলা আড়াইটার দিকে ফেরিটি উদ্ধার করে পাটুরিয়া ঘাটে ভেড়ানো হয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া প্রান্তে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি ভেড়ানোয় সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৭টি ফেরি রয়েছে। আজ চলাচল করছে ১২টি। যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মেরামত শেষে আবার দ্রুত বহরে যুক্ত করা হবে।
কারিগরি বিভাগের লোকজন বর্তমানে ফেরিটি মেরামতের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রধান মাস্টার রুমান সরকার। তিনি প্রথম আলোকে আরও বলেন, তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে হাইড্রোলিক পাইপ ফেটে যাওয়ায় সুকান (ডান ও বাঁয়ে ঘোরানোর যন্ত্র) কাজ করছিল না। ওই সময় স্রোতের টানে ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে চলে গেলে তাৎক্ষণিক ফেরিটি নোঙর করা হয়। দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ আইটি-৯৬ এবং পাটুরিয়া থেকে আরেকটি বড় ফেরি খানজাহান আলী এসে যৌথভাবে ফেরিটি টেনে পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ভেড়ায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।