পূজার ‘দাওয়াতে’ গিয়ে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার নেতাসহ ৭ জন

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আটক সাত নেতা–কর্মীকে পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছেছবি: প্রথম আলো

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সাত নেতা–কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটক হওয়া নেতা–কর্মীরা গতকাল রোববার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপূজার নিমন্ত্রণে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন সৈকত গুহ।

আটক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য ও সৈকত গুহর ছোট ভাই সলিল গুহ পিন্টু, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) মনোনীত সাবেক জিএস (সাধারণ সম্পাদক) মহিবুল আলম, কার্যক্রম নিষিদ্ধ পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ওয়াজ করনী আকন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মিঠুন হালদার, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গৌরনদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাসুম সরদার, মাহিলাড়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার ও পৌর কমিটির সদস্য সজিব সরদার।

এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনে মামলা করেছেন। মামলায় আটক সাতজন ছাড়াও সৈকত গুহ পিকলু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়া, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গৌরনদী উপজেলার সভাপতি জুবায়ের ইসলাম ভূঁইয়া, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ইকতিয়ার হাওলাদার, ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ ওরফে মনু মোল্লা ও জসিম উদ্দিন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের স্থানীয় নেতা মনির মীর ও মেহেদী আকনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কয়েকজন সক্রিয় নেতা-কর্মী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, আসন্ন ডিসেম্বর মাসে দলীয় প্রধানের দেশে প্রত্যাবর্তন সফল করা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে গৌরনদীর বিল্লগ্রাম এলাকার একটি বসতঘরে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। এ খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

এজাহার অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া করে সাতজনকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যান।

তবে আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁদের স্বজনেরা কোনো গোপন বৈঠকে ছিলেন না। তাঁরা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন।

সৈকত গুহ পিকলু বলেন, তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যার আগে বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তাঁদের বাড়িতে এসে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন। পরে সন্ধ্যার পরে লক্ষ্মীপূজার দাওয়াতে আসা ছয়জন এবং তাঁর ছোট ভাই পিন্টু গুহকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, আটক ব্যক্তিদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।