উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে সমাবেশ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন রোহিঙ্গারা, চাইলেন ঘরে ফেরার রোডম্যাপ
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গাদের টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার একটি আশ্রয়শিবিরে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে গঠিত সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। উখিয়ার জামতলী ( ক্যাম্প-১৫) আশ্রয়শিবিরে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা টানা ৯ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন। আর অপেক্ষা নয়, রোহিঙ্গাদের ঘরে (মিয়ানমারের রাখাইনরাজ্যে) ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অংশ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চান।
উখিয়ার সমাবেশে এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি আরও জোরালো ভূমিকার রাখার আহ্বান জানিয়ে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা দ্রুত ঘরে ফেরার রোডম্যাপ চাই।’
সমাবেশে ইউসিআর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রোহিঙ্গা নেতা মৌলভি সাইদ উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ও সমর্থনের ওপর নির্ভর করে আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন। এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের সময় এসেছে। রোহিঙ্গাদের আর অনির্দিষ্টকাল শিবিরে আটকে রেখে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ চাই। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি ( প্রধানমন্ত্রী) রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো ভূমিকা রাখবেন এই প্রত্যাশা রাখছি।
রোহিঙ্গা নেতা মো. সোয়াইব বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গারা ৯ বছরের বেশি সময় ধরে নিজ মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রত্যাবাসনের জন্য শুধু আলোচনা নয়, মিয়ানমারে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে পারেন।’
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। ফলে এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারকেই করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজেদের মাতৃভূমিতে ফেরার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হলে সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৮ লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। গত ৯ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। উল্টো গত দেড় বছরে রাখাইন রাজ্য থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) দমনপীড়ন ও সহিংসার শিকার হয়ে পালিয়ে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।