রূপগঞ্জে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে আগুন, পুলিশের গুলি, আটক ৪

ছাত্রদলের মিছিল থেকে কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নলহাটি এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি ট্রাকে আগুন দেওয়ার সময় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে ছররা গুলি ছুড়ছে পুলিশ। এতে ছাত্রদলের দুই কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদলের চার কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে রূপগঞ্জের নলপাথার এলাকায় এশিয়ান হাইওয়েতে (ঢাকা বাইপাস) এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন

আবির হোসেন বলেন, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা এশিয়ান হাইওয়েতে অবস্থান নিয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তাঁরা সড়কে চলাচলকারী কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ শটগান থেকে গুলি ছোড়ে।

দুটি ট্রাকের সামনের অংশ পুড়ে গেছে উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তা আবির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা নিজেদের ছাত্রদলের নেতা বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আটকের পর তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মাসুদুর রহমান তাঁর অনুসারীদের নিয়ে সকালে সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। মাসুদুর রহমানসহ অবরোধকারী সবাই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন

এদিকে সোনারগাঁয়ের মিরেরটেক এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নানের অনুসারীরা। সকাল আটটার দিকে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রিফাত বাবু ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল রাজের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যানার ও লাঠি হাতে সড়কে মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা একাধিক টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ এসে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে সড়কে আবার যান চলাচল শুরু হয়।

অবরোধের শেষ দিনে জেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সড়ক-মহাসড়কগুলোয় টহল দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা।