চুরির অভিযোগে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন, হাসপাতালে ভর্তি

মারধরপ্রতীকী ছবি

ফরিদপুরের মধুখালীতে চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ওই কিশোর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শরীরের পেছন অংশের কোমরের নিচে পুরো নিতম্ব কালচে হয়ে আছে।

আহত কিশোর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে স্থানীয় বাজারের একটি ফার্নিচারের দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। ওই এলাকার মায়ের দোয়া নামে একটি মুড়ির কারখানার দ্বিতীয় তলার ছাদে তাকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

ওই ছেলেটি এলাকায় বিভিন্ন মালামাল চুরি করে থাকে। আমার ঘরের কাজের রড চুরি করেছে কিন্তু ধরতে পারি না। ওই দিন ছাদে গিয়ে হাতেনাতে ধরেছি। তখন আমার ছেলে ও দুই ভাতিজা চড়থাপ্পড় দিয়েছে। মানবতা দেখিয়ে পুলিশে দিইনি, এখন দেখতেছি পুলিশেও দেওয়াই ভালো ছিল।
ইশারত মোল্লা

ওই কিশোরের বরাত দিয়ে স্বজনেরা জানান, ৩০ আগস্ট রাত ৯টা থেকে মুড়ির মিলের মালিক ইশারত মোল্লা (৫৫) এবং তাঁর ছেলে মুন্না মোল্লা (২২) তাকে নির্যাতন করেন। পরে ওই কিশোরকে ফেলে রাখা হয়। রাত সাড়ে ১২টার সময় আহত অবস্থায় কিশোরটিকে খু্ঁজে পান পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পরের দিন গত সোমবার সকালে কিশোর অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মারধরের বিষয়ে স্বীকার করেছেন ইশারত মোল্লা। তিনি বলেন, ‘ওই ছেলেটি এলাকায় বিভিন্ন মালামাল চুরি করে থাকে। আমার ঘরের কাজের রড চুরি করেছে কিন্তু ধরতে পারি না। ওই দিন ছাদে গিয়ে হাতেনাতে ধরেছি। তখন আমার ছেলে ও দুই ভাতিজা চড়থাপ্পড় দিয়েছে। মানবতা দেখিয়ে পুলিশে দিইনি, এখন দেখতেছি পুলিশেও দেওয়াই ভালো ছিল।’

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছে ওই কিশোর। তাঁর পাশে বসে কাঁদতে দেখা যায় দাদি রহিমা বেগম, বাবা রুবেল শেখ ও মা শম্পা বেগমকে। এ সময় কিশোরের নির্যাতনের চিহ্ন দেখান তাঁরা। তাতে দেখা যায়, কিশোরের পেছন অংশের কোমরের নিচে পুরো নিতম্ব কালচে হয়ে আছে; এমনকি রক্ত বের হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। বসতে না পারায় সারাক্ষণ কাত হয়ে থাকতে হচ্ছে কিশোরটিকে।

কিশোর জানায়, মুড়ির মিলের কাছাকাছি ইশারত মোল্লার বাড়ি। ঘটনার দিন রাত নয়টার দিকে ফার্নিচারের দোকানের কাজ শেষ করে ওই মিলের সামনে দিয়ে বাড়িতে ফিরছিল সে। ওই সময় মুন্না মোল্লা তাকে ডেকে দ্বিতীয় তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে ইশারত মোল্লাও আসেন। একপর্যায়ে রশি দিয়ে তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রড চুরির অভিযোগ তোলা হয়। তখন অভিযোগ অস্বীকার করলে লোহার পাইপ দিয়ে বেধড়কভাবে পেটান ইশারত ও মুন্না।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করে কিশোরের দাদি রহিমা বেগম বলেন, ‘ওরে আমিই কোলেপিঠে বড় করেছি, কোনো দিন কারও কিছু চুরি করে নাই। ওই দিন অনেক রাত হলে বাড়িতে না আসায় আমরা খুঁজতে বের হই। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই মিলের নিচে গোঙানির শব্দ পেয়ে দৌড়ে যাই। তখন আমরা মনে করেছিলাম, ছাদ থেকে পড়ে গেছে। পরে জ্ঞান ফিরলে ও আমাদের জানায়, হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে ইশারত আর তাঁর ছেলে মাইরা ফেলায় রাখছে।’

মধুখালী থানার ওসি শুকদেব রায় বলেন, ‘কিশোর নির্যাতনের কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এবং পরিবার অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’