শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ, ডিম ছুড়ে মারল শিক্ষার্থীরা

রাজশাহীর বাঘায় শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারে শিক্ষার্থীরছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজশাহীর বাঘায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁকে ডিম ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। পরে পুলিশ এসে তাঁকে হেফাজতে নেয়। আজ রোববার উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

আজ দুপুরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে পদত্যাগ জমা দেন ওই শিক্ষক। এতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি...এই মর্মে অঙ্গীকার করতেছি যে এই বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম। আমি সজ্ঞানে ও কারও প্ররোচনা ছাড়াই নিজে স্বাক্ষর করলাম।’

এ বিষয়ে ওই প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে উপস্থিত ছিলাম না। রোববার  স্কুলে আসার পর শিক্ষার্থীরা আমাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। কোনো সহকর্মী এগিয়ে আসেননি। আমি চাপের মুখে পদত্যাগ  করতে বাধ্য  হয়েছি। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।’

দশম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, মাস দেড়েক আগে পরীক্ষার ফি দিতে গেলে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তার বাঁ হাতে চেপে ধরেন। সে তখন ডান হাত দিয়ে প্রধান শিক্ষকের গালে একটা চড় মারেন। এরপর তিনি তাঁর দুই হাতে ধরে একটা কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার কথা সেদিনই বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষিকাকে জানায়। কিন্তু তাঁরা বিষয়টি চেপে যান। পরে ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

আজ সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। তাঁর গলায় পরানোর জন্য তারা জুতার মালা তৈরি করে। তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

খবর পেয়ে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ঘটনাস্থলে যান। তিনি সবার উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ শোনেন। যে দুজন শিক্ষিকা ঘটনা জানার পরেও চেপে গেছেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীটি তাদের নাম জানিয়ে দেয়। সংসদ সদস্য একজনকে সাময়িক বরাখাস্ত করার জন্য নির্দেশ দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। সহকারী শিক্ষককে সাসপেন্ড করার বিষয়ে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেবে ব্যবস্থাপনা কমিটি।