ভৈরব পৌর ছাত্রলীগ
বিদায়বেলায় গঠন করা হলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি
১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি সালেম রহমান। আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এমদাদুল হক।
২০ বছর পর ২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এক বছর মেয়াদি কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। ওই সময় ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ৮ মাস পর অবশেষে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ পৌর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটির তালিকা প্রকাশ করে জেলা ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়েজ উমান খান এ কমিটির অনুমোদন দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেতে বড় দেরি হয়ে গেল। অপেক্ষার সময় লম্বা হওয়ায় অনেকে হতাশ ছিলেন। এমন সময় কমিটি এল, যেন বিদায়বেলার সময় স্বাগত জানাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখতে হচ্ছে অভিনন্দন কিংবা শুভকামনা। এটা একধরনের রাজনৈতিক লজ্জা।
লম্বা অপেক্ষার বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, কথা ছিল পূর্ণাঙ্গ কমিটির নামের প্রস্তাব আসবে আংশিক কমিটির কাছ থেকে। তাঁরা প্রস্তাব পাঠাতে দেরি করে ফেলেছে। প্রস্তাব পাঠিয়েছে দুই দিন আগে। এরপরই যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিয়েছেন।
আংশিক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস পর নতুন করে কমিটির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আসলে এক বছর মেয়াদ ধরা হয়েছে সত্য। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই সময়ে সংগঠন গুছিয়ে আনা কঠিন। সেই কারণে সময়টির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
দলীয় সূত্র জানায়, আংশিক কমিটির আকার ছিল পাঁচ সদস্যের। কমিটির সভাপতি করা হয় সালেম রহমানকে। এমদাদুল হককে করা হয় সাধারণ সম্পাদক। এর আগে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়ে পৌর ছাত্রলীগ চলে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বর্তমান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন। ২০০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পৌর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর দীর্ঘ ২০ বছর আর কমিটি হয়নি। ফলে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পৌর ছাত্রলীগ কোনো কমিটি ছাড়াই চলেছে।
সদ্য ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি প্যানেল ১১ সদস্যের। তাঁরা হলেন সাহেদ নিয়াজী, আজীম হোসাইন, প্রশান্ত দাস, মো. জুয়েল, তৌহিদ জামান, জাহিদুল ইসলাম, আরিফ আক্তার, তুষার মিয়া, জুবায়ের হক, সানি মিয়া ও জাহিন মিয়া। কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাতজন আর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে ছয়জনকে।
এ বিষয়ে সভাপতি সালেম রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, অনেক বছর পৌর কমিটি ছিল না। ফলে কর্মীদের সক্রিয়তা যাচাই–বাছাইপ্রক্রিয়া সময় নিয়ে করতে হয়েছে।