ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ফটকের সামনে রাতের আঁধারে বর্জ্য ফেলল কারা, প্রশ্ন কর্তৃপক্ষের

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকের সামনে বর্জ্যের স্তূপ দেখতে পাওয়া যায়। আজ বুধবার সকালে তোলাছবি: প্রথম আলো

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড় নির্মাণের বিরোধের মধ্যেই এবার ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকের সামনে বর্জ্য ফেলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতের আঁধারে ফেলা এসব বর্জ্য ঘিরে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আজ বুধবার ভোরে পার্কের মূল ফটকের সামনে বর্জ্যের স্তূপ দেখতে পায় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, হাতির ভাস্কর্যশোভিত প্রধান ফটকের সামনে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় সেখানে এসব বর্জ্য ফেলে যাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বর্জ্যের স্তূপ পড়ে থাকার কারণে মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের চাপেই তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। পার্কে পায়ে হেঁটে প্রবেশ করা গেলেও জরুরি প্রয়োজনে কোনো যানবাহন প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা মনে করছি, বর্জ্যগুলো গাজীপুর সিটি করপোরেশনের। তাদের কেউ এ কাজ করেছে। ময়লার ভাগাড় নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আমাদের চিঠিপত্র আদান-প্রদান, সরাসরি আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় এ ঘটনা ঘটেছে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে, এটি উদ্দেশ্যমূলক। ময়লা পার্কের একেবারে গেটের সামনে ফেলা হয়েছে, এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়।’

আরও পড়ুন

বর্জ্য অপসারণে পার্ক কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা নেই জানিয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনকে জানাব। যেহেতু এলাকাটি তাদের আওতায়, বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বও তাদের।’

উল্লেখ্য, গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এ নিয়ে বন বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে বিরোধ চলছে। বন বিভাগের আপত্তি সত্ত্বেও নির্মাণকাজ অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘গাজীপুর সিটিতে সংরক্ষিত বনে ভাগাড় নির্মাণ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।