কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি, খুলনা মহানগর বিএনপির ক্ষোভ

দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার বিকেলে খুলনা নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের খুলনা জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে মাল্যদানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি।

রোববার রাতে নগর বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ক্ষোভের কথা জানানো হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে খুলনা নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো একদল নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত ছিল। এ সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনসহ নেতরা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

মাল্যদানের সময় কার্যালয়ে উপস্থিত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের উদ্যোগে সেখানে যান এবং তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। তাঁর দাবি, প্রায় ২৫–৩০ জন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সেখানে ছিলেন এবং কোনো উল্লেখযোগ্য নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন