নরসিংদীতে গোসল করতে না চাওয়ায় শিশুশিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটুনি, মাদ্রাসাশিক্ষক আটক
নরসিংদী শহরের একটি মাদ্রাসায় গোসল করতে না চাওয়ায় মুজাহিদুল (৭) নামের একজন শিক্ষার্থীকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে নাজমুস সাকিব নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বর্তমানে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক নাজমুস সাকিবকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার শহরের ভেলানগরের জেলখানার মোড় এলাকার মাদ্রাসাতুল আবরার আরাবিয়াহ মাদ্রাসায় বেধড়ক পিটুনির শিকার হয় ওই শিক্ষার্থী। মুজাহিদুল নরসিংদীর শিবপুরের পুটিয়া ইউনিয়নের কারারচর গ্রামের জুয়েল আহমেদের ছেলে ও মাদ্রাসাটির হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা জানান, কোরআনে হাফেজ হওয়ার জন্য মুজাহিদুলকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল। গতকাল দুপুরে ওই শিক্ষার্থী গোসল করতে না চাওয়ায় রাগান্বিত হয়ে তার সারা শরীরে বেধড়ক বেত্রাঘাত করেন শিক্ষক নাজমুল সাকিব। কিছুক্ষণ পরই বাবা জুয়েল আহমেদ তার খোঁজ নিতে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন, সে কাঁদছে। কান্নার কারণ জানতে চাইলে শরীরের আঘাতগুলো বাবাকে দেখায় সে। এ ঘটনায় হকচকিত বাবা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেন। আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে গেলে জানাজানি হয়।
১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে শিশুটি গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার সারা শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন আছে।
শিশুটির ফুফু শাকিলা বেগম বলেন, শরীরজুড়ে বেত্রাঘাতের দাগ আর রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন। কোনোভাবেই শিশুকে এভাবে পেটানো যায় না। এমন ঘটনা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকদের কাউকে পাওয়া যায়নি। বিকেলে মাদ্রাসার পরিচালক মিসবাহ উদ্দিন নোমানী মুঠোফোনে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।