‎দাদির উপহার এক ভেড়া, আজ ৯৮টির বিশাল পাল

ভেড়ার পাল নিয়ে বাড়িতে ফিরছেন আশিক চৌধুরী। ছবিটি বুধবার দুপুরে কুসুম্বা-চানপাড়া সড়কে তোলাছবি : প্রথম আলো

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় দাদির দেওয়া একটি ভেড়া ছিল তাঁর জীবনের প্রথম সম্পদ। সেই একটি ভেড়াকেই পুঁজি করে শুরু হয়েছিল পথচলা। এক যুগের বেশি সময়ের পরিশ্রম, ধৈর্য ও যত্নে আজ সেই একটি ভেড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮টির বিশাল পালে। এবারের ঈদুল আজহার আগে ২৬টি ভেড়া বিক্রি করে আয় করেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার তরুণ আশিক চৌধুরীর (২১) এই সাফল্যের গল্প এখন অনেক তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

আমি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি, তখন আমার দাদি আমাকে একটি ভেড়া উপহার দেন। সেই ভেড়ার দেখাশোনা করতেন আমার মা। পরে ভেড়াটি বাচ্চা দেয়। ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে। কখনো হাল ছাড়িনি। নিয়মিত যত্ন নিয়েছি, রোগবালাই থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। আজ সেই একটি ভেড়া থেকে ৯৮টি ভেড়ার পাল গড়ে উঠেছে।

আশিক চৌধুরী উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হরেন্দা চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আবদুর রহিম চৌধুরীর ছেলে। ২০২২ সালে হাকিমপুর কৈজুরী বিএনআর উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। পরে ২০২৪ সালে ঢাকার ডেমরার ডক্টর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি পুরো সময় দিচ্ছেন ভেড়া পালনে। তবে সুযোগ হলে আবারও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

‎গতকাল বুধবার দুপুরে কুসুম্বা-চানপাড়া সড়কের পাশের মাঠে দেখা যায় আশিককে। বিশাল ভেড়ার পাল নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। প্রাণবন্ত হাসিমুখে শোনালেন নিজের সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প। ‎আশিক বলেন, ‘আমি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি, তখন আমার দাদি আমাকে একটি ভেড়া উপহার দেন। সেই ভেড়ার দেখাশোনা করতেন আমার মা। পরে ভেড়াটি বাচ্চা দেয়। ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে। কখনো হাল ছাড়িনি। নিয়মিত যত্ন নিয়েছি, রোগবালাই থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। আজ সেই একটি ভেড়া থেকে ৯৮টি ভেড়ার পাল গড়ে উঠেছে।’

ভেড়ার পালের সঙ্গে আশিক চৌধুরী
ছবি: প্রথম আলো

আশিক চৌধুরী জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ভেড়ার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ বছর ঈদের আগে তিনি ২৬টি ভেড়া বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ভবিষ্যতে ভেড়ার খামার আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি গরুর খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

আশিকের মা রেহেনা খাতুন বলেন, ‘শুরুর দিকে আশিকের কাছে এটা ছিল শখের মতো। কিন্তু ধীরে ধীরে ভেড়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। ছোটবেলা থেকেই আশিক পশুপাখি খুব ভালোবাসে। নিজের সন্তানের মতো করে ভেড়াগুলোর যত্ন নেয়। তার এই নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফল এখন সবাই দেখতে পাচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমার ছেলের আরও বড় খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম জানান, ‎পরিকল্পিতভাবে পশুপালন করেও যে সফল হওয়া যায়, আশিক তার উজ্জ্বল উদাহরণ। দাদির উপহার পাওয়া একটি ভেড়া থেকে আজ প্রায় ১০০টি ভেড়ার মালিক হয়েছেন। তাঁর এ গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য হতে পারে আত্মবিশ্বাস ও উদ্যোক্তা হওয়ার।

পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. হাসান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশিক চৌধুরী একটি ভেড়া থেকে অনেকগুলো ভেড়ার মালিক হয়েছেন। তিনি একজন সফল খামারি। আমরা নিয়মিত টেকনিক্যাল সাপোর্ট করি।’