স্থানীয় চাঁই ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বিভিন্ন হাটে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে চাঁই বিক্রি হয়। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে চাঁইয়ের হাটে বেচাকেনা বেশি হয়। এ সময় হাটগুলোয় প্রচুর চাঁই ওঠে।

সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক, পাঁচপাড়া, ডাকাতিয়া ও জুজখোলা এবং নাজিরপুর উপজেলার জয়পুর, আমতলা গ্রামসহ বেশকিছু গ্রামের নারী-পুরুষেরা বাড়িতে বাঁশ দিয়ে চাঁই তৈরি করেন। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে থেকে চাঁই তৈরি শুরু হয়। গ্রাম থেকে ব্যবসায়ীরা চাঁই কিনে হাটে বিক্রি করেন। অনেকে নিজের তৈরি চাঁই হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। বাঁশ, নাইলন বা প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে চাঁই তৈরি করা হয়। প্রতি জোড়া চাঁইয়ের দাম ৩২০-৩৫০ টাকা।

চাঁই ব্যবসায়ী সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের রতন মিস্ত্রি (৪০) বলেন, বাঁশের দাম বাড়ায় চাঁইয়ের উৎপাদনব্যয় বেড়ে গেছে। নাজিরপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামের রণজিৎ মাতা (৪৮) বলেন, যশোর থেকে তল্লা বাঁশ কিনে এনে বাড়িতে তাঁরা চাঁই তৈরি করেন। পরিবারের তিনজন এ কাজ করেন।

প্রতিদিন একজন চার-পাঁচটি চাঁই তৈরি করতে পারেন। বাড়িতে তৈরি করা চাঁই পিরোজপুর ও নাজিরপুরের বিভিন্ন হাটে নিয়ে বিক্রি করেন।

চাঁই ব্যবসায়ী মনোজ হাওলাদার (৩০) বলেন, বর্ষা মৌসুমে জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ তিন মাস চাঁইয়ের হাট জমজমাট থাকে। আষাঢ়ের শুরুতে চাঁই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। এ সময়ে প্রতি হাটে দুই থেকে তিন হাজার চাঁই বিক্রি হয়। এ অঞ্চলের হাটগুলোয় চাঁইয়ের ক্রেতারা মূলত কৃষক, জেলে ও গৃহস্থ পরিবার।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন