উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেলুয়া গ্রামের সম্ভাব্য অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ পর্যবেক্ষণের জন্য সকালে আইইডিসিআরের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তখন তারা গ্রামের সন্দেহভাজন আক্রান্ত রোগীদের নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি গ্রামবাসীকে নিয়ে উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয়। এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে প্রতিনিধিদল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আসে।

প্রতিনিধিদলটিতে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক রাবেয়া সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সম্ভাব্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য নিয়েছেন। সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তিসহ নতুন আরও দুজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ কি না, তা চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।

এর আগে গতকাল প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিশেষজ্ঞ একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিদর্শন দলে ছিলেন চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান, ফয়সল তালুকদার, মো. জাকিউল ইসলাম ও মো. ইব্রাহীম খলিল। তাঁরা কাঁচা মাংস ছাড়াও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করেন। যা ঢাকা সিডিআইএল ও সিরাজগঞ্জের এফডিআইএল ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর নিশ্চিত তথ্য জানা যাবে।

লালপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার সরকার বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গত তিন দিনে ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে দেলুয়া গ্রাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রুইগাড়ি, কান্দিপাড়া, বিভাগ ও নান্দগ্রামের আড়াই হাজার গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের টিকা দিয়েছেন। প্রাণিসম্পদ দপ্তর আক্রান্ত এলাকা ছাড়াও পুরো উপজেলা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

ইউএনও শামীমা সুলতানা বলেন, জনসাধারণকে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আতঙ্কমুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে রোগ যাতে না ছড়াতে পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন