নোয়াখালীতে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ, পরিদর্শকসহ পাঁচজন আহত
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একটি মামলার তদন্তে গিয়ে পুলিশের একটি দল হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় পুলিশের পরিদর্শকসহ (তদন্ত) পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিনউদ্দিন, পুলিশ কনস্টেবল মো. ইছাক, মো. ইউছুফ ও শাহাদাত হোসেন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বসুরহাট পৌরসভার মওদুদ স্কুল রোড এলাকার দারুল ইহছান মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার ওই এলাকার সাতজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও ক্ষতিসাধনের একটি অভিযোগ করেন থানায়। আজ বেলা তিনটার দিকে অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে যায় কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদসহ পুলিশের একটি দল।
তদন্তের সময় বিবাদী পক্ষের লোকজনের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে জানা গেছে। সেখানে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বিবাদী পক্ষের লোকজন পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান। তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে পুলিশ সদস্যদের জখম করেন। এতে অভিযানে থাকা পুলিশ পরিদর্শক মঞ্জুর আহমেদসহ পাঁচ সদস্যের সবাই কমবেশি আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ ঘটনার পর পুলিশ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতাল এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন ছেমনা খাতুন, বিয়াধুনি, মনোয়ারা, আয়েশা, অজি উল্লা, আবু সুফিয়ান ও জাবের। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজন মো. বাবুল দাবি করেন, পুলিশ বাড়ির নারীদের মারধর করেছে। এরপর নারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে সড়কে থাকা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
পুলিশ জানায়, মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবনের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিবাদী পক্ষ জায়গাটিতে পূর্বপুরুষের সম্পত্তি দাবি করে নোয়াখালীর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছে। অপর দিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জায়গাটি তাদের মালিকানাধীন দাবি করেছে এবং নির্মাণকাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছে থানায়।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, চাঁদাবাজির একটি অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে বাদী পক্ষ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ করে। তখন ভাঙচুরের বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অতর্কিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পরিদর্শকসহ (তদন্ত) পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের মধ্যে নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।