সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এবার তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে সংসদীয় এলাকা শ্যামনগর উপজেলায় আজ বৃহস্পতিবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
আজ বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস চত্বরে ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে মানববন্ধন শুরু হয়।
ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে মো. ফরিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মাওলানা আবদুল কাইয়ুম। এ সময় তিনি বলেন, ‘নৈতিক স্খলনের ঘটনায় আপনি (গাজী নজরুল) শুধু নিজের সম্মানের ক্ষতি করেননি, সমগ্র আলেম সমাজকে অপমানিত করেছেন। তাই আপনার মতো ব্যক্তিকে আর পবিত্র সংসদে দেখতে চাই না। আপনি অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করুন। অন্যথায় আমরা আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেব।’
এ ছাড়া উপজেলার ঈশ্বরীপুর, কাশিমাড়ী ও নুরনগর ইউনিয়নে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায়ী আবদুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আছাদুল্লাহ বাহার, আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান।
বক্তারা বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য পদ অলংকৃত করার যোগ্যতা হারিয়েছেন। শ্যামনগরবাসী তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, কেউ তাঁকে আর শ্যামনগরের মাটিতে দেখতে চান না। তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।
নুরনগর ইউনিয়নের নুরনগর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আলমগীর।
কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাশিমাড়ী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী সোলাইমান করির, আজিজুল ঢালী প্রমুখ।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। প্রথম দিকে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন।
তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয় এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করে। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন গতকাল বুধবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।