গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জ সদরের রায়পুর উত্তর পাড়া গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে তুষার আহম্মেদ ওরফে ইউসুফ খান অন্তর (২২), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দি গ্রামের মৃত নূরু মিয়ার ছেলে ওয়াজেদ আলী (৩৪), সিরাজগঞ্জ সদরের মালশাপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আবদুল লতিফ খান ওরফে নিকি (২১), মোহনপুর (ভাসমান) গ্রামের বাবু কশাইয়ের ছেলে ইনামুল হক ওরফে আশিক (১৯), সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের সয়াধানগড়া মহল্লার মৃত কিচমত আলী শেখের ছেলে আবদুল মোতালেব (২৬), সিরাজগঞ্জ সদরের চক শিয়ারকোল গ্রামের মৃত ফটিক শেখের ছেলে সোহেল রানা (২৮)।

পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মাঠে নামানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অব্যাহত অভিযানে এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এবং সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওই ছয়জনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান বলেন, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে হ্যান্ডকাপ ১ জোড়া, মুঠোফোন ৩টি, মানিব্যাগ ১টি, পুলিশ আইডি কার্ড ১টি, ৬ হাজার ২০০ টাকা ও কালো ব্যাগ ২টি। এ সময় ছিনতাই-ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুটি বার্মিজ চাকু ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিয়মিত ডাকাতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাঁদের দলনেতা তুষারের নেতৃত্বে ৬ জনের একটি ডাকাত দল এবং ডাকাত সরদার ছোটর (ছদ্মনাম) নেতৃত্বে ৬-৭ জনের অপর একটি দল সিরাজগঞ্জের কড্ডা এবং মুলিবাড়ির মাঝামাঝি জায়গায় পৃথকভাবে অবস্থান নেয়। এ সময় সোনাতলা থানার পুলিশ সদস্যরা বগুড়ায় অপহৃত এক শিক্ষার্থীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে বগুড়ায় ফিরছিলেন। পথে কড্ডার মোড় ও মুলিবাড়ির মাঝামাঝি এলাকায় ডাকাত দল পাথর নিক্ষেপ করে ওই মাইক্রোবাসের ডান পাশ থেকে পেছন দিকের কাচ ভেঙে ফেলে। এতে মাইক্রোবাসের ভেতরে থাকা উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর বড় চাচা শহিদুল ইসলাম মাথায় আঘাত পান।

আরিফুর রহমান আরও বলেন, শহিদুলের মাথায় রক্তক্ষরণ শুরু হলে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। এতে চালক গাড়ি থামিয়ে শহিদুলের মাথায় রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে মাথায় গামছা বেঁধে দেওয়ার একপর্যায়ে সশস্ত্র ডাকাত দল গাড়ির পেছন দিক থেকে এসে যাত্রীদের হামলা করে টাকা, মুঠোফোন, পুলিশের ইউনিফর্ম, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাপ এবং শিক্ষার্থীর কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় দুজন পুলিশ সদস্যসহ তিনজন আহত হন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।