সাতক্ষীরায় হাসপাতালে আগুন, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অর্ধশতাধিক রোগী
সাতক্ষীরা জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ভবনে আটকে পড়া রোগী, স্বজন ও কর্মীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুন লাগার পর হাসপাতালজুড়ে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই ভবনের ছাদ এবং ছয় ও সাততলার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে নিচে থাকা লোকজনের কাছে সাহায্য চাইছিলেন কয়েকজন।
পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ হাসপাতালের সামনে জড়ো হলে তাঁদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাজ করতে দেখা যায়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাও সহযোগিতা করেন।
দ্রুতই হাসপাতাল ভবন থেকে রোগীদের বের করে আনা হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (এনআইসিইউ) অন্যান্য ওয়ার্ডের রোগীদেরও নিরাপদে ভবনের বাইরে এনে একে একে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। অনেক রোগীর স্বজনকে হাসপাতালের সামনের সড়কে উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ভবন থেকে বের করে আনা রোগীদের একে একে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় হাসপাতালের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্লিস হাসপাতালের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, আগুন লাগার সময় হাসপাতালের বেজমেন্টে কয়েকজন কর্মী কাজ করছিলেন। শুরুতে ধোঁয়া ও আগুনের উৎস বুঝতে পারেননি তাঁরা। তখন হাসপাতালে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। নিচে আগুন লাগার খবর পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে রোগী ও স্বজনদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয়।
রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার সময় ওপর থেকে কাচের টুকরা পড়লে সামান্য আঘাত পেয়েছেন বলে জানান প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, সবচেয়ে কঠিন ছিল নবজাতক, এনআইসিইউ ও আইসিইউতে থাকা রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া। তবে সবার সহযোগিতায় সব রোগীকেই নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শিমুল রানা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভবনের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে আটকে পড়া সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধারকাজে সহায়তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে আহত বা নিহত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।