বিএনপির বিরুদ্ধে গেলে সেই খবর পত্রিকায় ছাপা হয় না: হাসনাত আবদুল্লাহ
বিএনপির বিরুদ্ধে গেলে সেই খবর পত্রিকায় ছাপা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার দুপুরে দেবীদ্বার পৌরসভার বিজলীপাঞ্জার এলাকায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, যদি বিএনপির বিরুদ্ধে যায় সেই খবর পত্রিকায় ছাপা হয় না। বিএনপির চাঁদাবাজির নিউজ পত্রিকায় ছাপা হয় না। বিএনপির চাঁদাবাজি, যে ছুরি দিয়ে পোচ দিয়া ৩২৬ ধারায় মামলা করে, শুনছেন না আপনারা? অর্থাৎ আমাদের ফাঁসানোর জন্য বলা হয়, একটা হিরোঞ্চি ভাড়া কর, এরপর তারে পোচাও, পোচাইয়া মামলা কর। এই নিউজ কোথাও দেখছেন? এই নিউজ মিডিয়াগুলো ছাপাবে না। এই মিডিয়াগুলোর দলবাজি আমরা মনে রাখব।’
গণমাধ্যমের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘একটা মিডিয়া কখনোই কোনো দলের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে না। আপনাদের মধ্যে সাংবাদিক যাঁরা আছেন, তাঁদের বেতন দেয় কত টাকা? কোনো বেতনই দেয় না। দুই হাজার, দেড় হাজার অথবা হাতে একটি বুম (মাইক্রোফোন) ধরিয়ে দিয়ে বলে কর্ম করে খাও। অথচ মিডিয়া মাফিয়া যারা আছে, তারা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ইনকাম করে। যাদের পুঁজি করে ইনকাম করে তাদের বেতনটা পর্যন্ত ঠিকমতো দেয় না। এগুলো নিয়ে তারা কোনো কথা বলে না।’
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘যারা এত বছর ধরে বিএনপি-জামায়াতকে হত্যাযজ্ঞ করে তুলেছিল, আজকে আবার তারাই তেলের কনটেইনার নিয়ে, গ্যালন নিয়ে আবার ফ্যাসিবাদ বানাইতে উঠেপড়ে লাগছে। এই মিডিয়ার দ্বিচারিতা বাংলাদেশের মানুষ মনে রাখবে। আমি যেটা সত্য সেটা বলবই, আপনি আমাকে থামাতে পারবেন না।’ তিনি বলেন, ‘এই মিডিয়ার চরিত্র দেখবেন আরও খারাপ হবে। সময় পরিবর্তন হলে দেখবেন, মিডিয়াগুলো কী পরিমাণ মাফিয়া সন্ত্রাস হয়ে ওঠে।’
এর আগে সকালে উপজেলার সুবলি ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর ঘোষাই বাড়ি মাঠে উঠান বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেকেই এখন ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোট চুরির পরিকল্পনা করছেন। যাঁরা এই পরিকল্পনা করছেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। এখানে যাঁরা আছেন, আপনারা ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্র পাহারায় যাবেন। যাঁরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসবে, তাঁদের নেতাদের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে কর্মীদের বেঁধে পুলিশে দেবেন। এবার ভোট চুরি প্রতিহত করতে রাজনৈতিক নেতার দরকার নেই, যারা জুলাই আন্দোলনে রাস্তায় নেমে এসেছে, তারাই ঠেকাবে। জুলাই আন্দোলনের সময় আমার মা-বোনেরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আমাদের পানি খাওয়াইছে, তারাই এবার ভোট চুরি ঠেকাবে। এই বাংলাদেশে ভোট চুরির রাজনীতি হাসিনার পালানোর পরপরই শেষ হয়ে গেছে । যারা ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করবে, তাদেরও হাসিনার পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘একটি দল গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। “হ্যাঁ” ভোটের শর্তের কোথাও কি এই কথা লেখা আছে? আপনারা নির্বাচনে দুটি ভোট দেবেন—একটি “শাপলাকলি” আরেকটি “হ্যাঁ” ভোট। পরবর্তী বাংলাদেশের বিনির্মাণ “হ্যাঁ” ভোটের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠবে।’
উঠান বৈঠকে অন্যদের মধ্যে কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম (শহীদ), দেবীদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুমিল্লা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জামসেদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শরীফুল ইসলাম সরকার, উপজেলা এনসিপির সার্চ কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।