রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যাকাণ্ডে আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে শেষ দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা ১১টা ১০ মিনিট থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে ওই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ডিবির আরও দুই সদস্য ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেলা দুইটার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে মোটরসাইকেলে চলে যান তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রথম দফায় ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথম দফার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ সকালে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামিদের কাছ থেকে কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। আজ জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেগুলো আরও পরিষ্কার হবে। সবকিছুই জানতে পারবেন, একটু অপেক্ষা করেন।’
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গতকাল ও আজ দুই আসামিকে জেলগেটে তিন ঘণ্টা করে মোট দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।
গত সোমবার রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এর বিচারক রফিকুল ইসলাম তাঁদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। পুলিশ তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। আদালত তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। সে অনুযায়ী আজ শেষ দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে কী পাওয়া গেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাননি তদন্ত কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্রিফিং পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে কি না, তা এখনো তা জানা যায়নি।
গতকাল জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকেলে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে ব্রিফিং করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ বলেন, চার খুনের রহস্য উদ্ঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে পুলিশ।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তদন্তে আরও কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং আগের জবানবন্দির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সবকিছু আমরা মিলিয়ে দেখছি।’
গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিতেন। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।