রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন করেন স্বামী: পুলিশ

নিহত গৃহবধূ শাহিদা আক্তার মুন্নিছবি: সংগৃহীত

রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী শাহিদা আক্তার ওরফে মুন্নিকে (২৯) খাওয়ান স্বামী সাইফুল ইসলাম (৩৩)। ওষুধ মেশানো মিষ্টি খেয়ে শাহিদা অচেতন হয়ে পড়লে সাইফুল তাঁকে প্রথমে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। তারপর লাশের পরিচয় গোপন করতে তিনি শাহিদার শরীর থেকে মাথা ও দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করেন।

গত মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে কক্সবাজারে এনে সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল এসব জানায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানায় জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বলেন, হত্যার এক দিন পর শাহিদার মাথা ও হাতবিহীন দেহাংশটি একটি ডোবায় ফেলে দেন। আর শরীর থেকে আলাদা করা মাথা ও হাতের কবজি সাত কিলোমিটার দূরে নদীতে নিক্ষেপ করেন। এরপর আত্মগোপন করেন সাইফুল।

১১ এপ্রিল বিকেলে কক্সবাজার শহরতলির জানারঘোনা এলাকার একটি ডোবা থেকে মাথা ও দুই হাতের কবজিবিহীন অবস্থায় শাহিদার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুরুতে পুলিশ লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। তবে শাহিদার স্বজন ও এলাকাবাসী শরীরের কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন। এরপর শাহিদার স্বজনদের কাছ থেকে সাইফুলের মুঠোফোন নম্বর নিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর কক্সবাজারে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হত্যার কথা স্বীকার করেন সাইফুল।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ২৬ মার্চ রাতে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেন। হত্যার এক দিন পর শাহিদার মাথা ও হাতবিহীন দেহাংশটি ঝিলংজা এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেন। আর শরীর থেকে আলাদা করা মাথা ও হাতের কবজি সাত কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মিত খুরুশকুল সেতুর ওপর থেকে নদীতে নিক্ষেপ করেন। এরপর তিনি আত্মগোপন করতে ঢাকায় চলে যান।

স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে ঢাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজারে নিয়ে আসে পুলিশ
ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

সাইফুল ইসলাম মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের দাসিমাঝি পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে। আর নিহত শাহিদা আক্তার মুন্নি একই উপজেলার চরপাড়ার বাসিন্দা আমান উল্লাহর মেয়ে। কয়েক বছর আগে দুজনের বিয়ে হলেও পারিবারিক কলহ লেগে ছিল।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, সাইফুলের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ বুধবার বিকেল থেকে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করা মুন্নির মাথার সন্ধান করছে। এর আগে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। সাইফুলের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।