চিকিৎসকেরা বলছেন, অঙ্গহানি, পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং প্রতিবন্ধিতাও পঙ্গুর পর্যায়ে পড়ে। সিলেটে অঙ্গহানির মাধ্যমে পঙ্গুত্ব বরণকারীদের মধ্যে অধিকাংশই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার। আবার মারামারি এবং বিভিন্ন আঘাত পেয়েও অনেকে পঙ্গু হয়েছেন। বিভাগে পঙ্গুর চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল নেই। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে হাড়ভাঙা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের দুটি ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় তিন থেকে চার গুণ রোগী ভর্তি থাকেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, অর্থোপেডিক বিভাগের পুরুষ ওয়ার্ডে ৩২টি শয্যার বিপরীতে চিকিৎসাধীন ৮৮ জন, আর নারী ওয়ার্ডে ১২টি শয্যার বিপরীতে চিকিৎসাধীন ৭০ জন। যাঁরা চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা মনিন্দ করের (৪৫) সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে গিয়ে ডান পায়ের হাঁটুর নিচে তাঁর হাড় গুঁড়া হয়ে যায়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে তিনি ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি ছিলেন। সেখানে প্রায় তিন মাস তাঁর দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। 

অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান শংকর কুমার রায় বলেন, হাসপাতালে পঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষায়িত কোনো বিভাগ নেই। অর্থোপেডিক বিভাগই পঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়। তবে রোগীর চাপ এত বেশি থাকে প্রতিদিন গড়ে ১০টি অস্ত্রোপচার করতে হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২ থেকে ৩ শতাংশ রোগী পঙ্গুত্ব বরণ করেন। 

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় শারীরিক প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ২৯ হাজার ২৪৬। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৮ হাজার ৫০৩। 

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শরীফুল হাসান বলেন, পঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং বিশেষ পুনর্বাসনের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে একটি ইউনিটের প্রয়োজন। এসব রোগীর জন্য পুনর্বাসন জরুরি।