আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ফকির পাড়া গ্রামের আরিফ সিকদার ও হৃদয় কৃষিশ্রমিকের কাজ করতেন। গত ১২ মে সকালে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে কৃষিশ্রমিক আরিফ, হৃদয় ও বাবুল শেখকে কয়েক দিনের জন্য জমির ধান কাটতে নিয়ে যান এক গৃহস্থ (জমির মালিক)। সাটুরিয়ার গর্জনা বেলতলী এলাকায় ওই গৃহস্থের জমিতে ১৬ মে দুপুরে ধান কাটার সময় পূর্বশত্রুতার জেরে পাশেই সেচযন্ত্রের ঘরের ভেতর নিয়ে কাস্তে দিয়ে আরিফকে গলা কেটে হত্যা করেন হৃদয়। এর পর হৃদয়কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী।

ঘটনার রাতে নিহত আরিফের ভাই মনোয়ার সিকদার হৃদয়কে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এক দিন পরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘিওর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হাসান আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এ মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সব সাক্ষী এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আসামি মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও জরিমানা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুস সালাম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম কায়সার। পিপি আবদুস সালাম বলেন, এটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। সাধারণত এ ধরনের মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর পার হয়ে যায়। তবে এই হত্যা মামলার বিচারকাজ সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছ। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় এবং এই রায়ে বাদীপক্ষের লোকজন স্বস্তি ও ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম কায়সার।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন