নরসিংদীতে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে কিশোর নিহতের ঘটনায় মামলা
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে কিশোর মুস্তাকিম (১৪) নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তার মা শাহানা বেগম বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আসামি দুজন হলেন মাসুম মিয়া ওরফে চায়না মাসুম ও মালেক মিয়া। তাঁরা দুজন এরশাদ পক্ষের অনুসারী বলে জানা গেছে।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম বলেন, ‘আমরা তো কোনো দলাদলিতে নেই। তাহলে আমার ছেলেকে কেন গুলি করে মারা হলো? মাসুম আমার ছেলেরে গুলি করছে। মামলা করছি, এখন ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
এর আগে গত বুধবার সকালে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নে সায়দাবাদ এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে মুস্তাকিম মিয়া গুলিতে নিহত হন। মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদিপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও নিহত কিশোরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন হানিফ মাস্টার, অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। কয়েক দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
গত বুধবার সকাল ছয়টার দিকে এরশাদের এক দল অনুসারী আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি অস্ত্রসহ হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালান। এ সময় তাঁদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যান হানিফ মাস্টারের অনুসারীরা। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে এরশাদ পক্ষের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মুস্তাকিম। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আসামিরা ঘটনার পর থেকে এলাকা ছাড়া বলে জানিয়েছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, এ কারণে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।