মাদকাসক্ত দুই ছেলের পিটুনিতে আহত বাবার মৃত্যু

গাজীপুর জেলার মানচিত্র

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ এলাকায় মাদকাসক্ত দুই ছেলের পিটুনিতে আহত বাবা ওসমান গনি গতকাল সোমবার রাতে মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মো. ওসমান গনি (৭০)। তিনি গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ হাবিব মার্কেট এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় আজ দুপুরে ওসমান গনির বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর বেলা তিনটার দিকে অভিযুক্ত দুই ছেলে মাহবুব আলম (৩৬) ও শরিফুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ রাফিউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেশীরা ও পুলিশ জানায়, ওসমান গনির দুই ছেলে শরিফুল ইসলাম ও মাহবুব আলম মাদকসেবী। বিভিন্ন সময় বাবা, বড় ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে মাদক সেবনের টাকা চাইতেন তাঁরা। টাকা না পেলে ঝগড়াবিবাদ করতেন।

এর আগে মাদকদ্রব্য কেনার টাকার জন্য তাঁরা রেফ্রিজারেটর, আইপিএস, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব বিক্রি করেছেন। গত শনিবার বাবা ওসমান গনির কাছে টাকা চেয়েও পাননি দুই ছেলে।

ওই দিন রাত পৌনে ১১টার দিকে সারদাগঞ্জ রাইস মিলের পাশে হাবিব মার্কেটের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন শরিফুল। এ সময়ে তাঁর বাবা ওসমান গনি ছেলের কাছে ঘরের জিনিসপত্র বেচে দেওয়ার কারণ চানতে চান। এটা নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে তর্ক হয়।

এ সময় শরিফুল ও তাঁর ভাই মাহবুব আলম লাঠি দিয়ে তাঁদের বাবা ওসমান গনিকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এতে বাঁ চোখে রক্তাক্ত জখম হয় তাঁর। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গাজীপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখান থেকে গতকাল সোমবার রাতে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর রাত দুইটার দিকে ওসমান গনির মৃত্যু হয়। আজ সকালে কাশিমপুর থানার পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মারা যাওয়া ওসমান গনির বড় ছেলে সফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি স্ত্রী–সন্তান নিয়ে গাজীপুর শহরে থাকেন। তাঁর বাবাকে গতকাল রাতে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়। এরপর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ভাই মাদকাসক্ত। মাদকদ্রব্য কেনার টাকার জন্য তাঁরা চুরি করে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছিল। প্রতিবাদ করলেই পরিবারের সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করত।’