সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘১৫ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ৭৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ নগরের সব সড়কের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কেন তারা এটা করেছে এবং কার নির্দেশে করেছে, এটা আমরা জানি না। আমাদের কিছু জানানো হয়নি। হঠাৎ তারা সড়ক বাতি এবং পানি সরবরাহের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।’

ওজোপাডিকো সূত্র জানায়, বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। এ জন্য নগরের সড়ক বাতি ও পানির লাইনের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। গত রোববার বিকেল থেকে এই অভিযান শুরু করে ওজোপাডিকো।

বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি সন্ধ্যার পরই ভুতুড়ে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছে অনেকে।

ওজোপাডিকোর বরিশাল অঞ্চলের পরিচালন ও সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, সিটি করপোরেশন অন্তত ১০ বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। এতে জমতে জমতে গত ১০ বছরে বড় আকারের বিল বকেয়া পড়েছে। এই অর্থ আদায় করতে না পারায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে পড়েছে। এ জন্য নিরুপায় হয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ সিটি করপোরেশনের সড়ক বাতির বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান শুরু করে। রোববার থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

ওজোপাডিকোর বরিশাল অঞ্চলের পরিচালন ও সংরক্ষণ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ টি এম তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পাওনা রয়েছে। পাওনা পরিশোধে অসংখ্যবার তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। সবশেষ তাদের বকেয়া বিল পরিশোধের দিন ধার্য ছিল ১৮ সেপ্টেম্বর। কিন্তু নির্ধারিত সময়ও সিটি করপোরেশন বিল পরিশোধ করেনি। ফলে অভিযান চালিয়ে সড়কের লাইন বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা বিভিন্ন সড়কের লাইন বিচ্ছিন্ন করেছি।’

এদিকে সড়কবাতি এবং পানি সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তি পড়েছে নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। নগরের উত্তর আলেকান্দার গৃহবধূ দুলিয়া বেগম বলেন, দুই দিন ধরে লাইনের পানি পাচ্ছেন না। এতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় যেসব বাড়িতে সাবমার্সিবল পাম্প আছে, সেসব বাড়ি থেকে পানি এনে অবস্থা সাময়িক সামাল দিচ্ছেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেনের সময় থেকে বকেয়া বিলের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। পরবর্তীকালে সাবেক মেয়র আহসান হাবিব পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ বেড়ে ২২ কোটিতে দাঁড়ালে তাঁর সময়ে কয়েক কিস্তিতে সামান্য বিল পরিশোধ করা হলেও তা পরে আবার থেকে যায়। আর এখন তা বেড়ে প্রায় ৫০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ আজ বুধবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তিন দিন ধরে ঢাকায় আছি। তাই বিস্তারিত জানি না। তবে যেসব বিল বকেয়া পড়েছে, সেগুলো ১০ থেকে ১২ বছর আগের। বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘সড়কবাতি, পানি সরবরাহ কিংবা সিটি করপোরেশনের অন্যান্য খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় নাগরিকদের জরুরি সেবা দানের জন্য। তাই এসব জরুরি সেবার খাতে বিদ্যুৎ–সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সিটি করপোরেশনের অগ্রাধিকারের কাজ বলে আমি মনে করি। আবার কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়া এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাটাও দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের প্রত্যাশা, সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত বসে বিষয়টি সমাধান করে নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন