বাউফলে অন্তঃসত্ত্বাকে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগে জামায়াতের বিক্ষোভ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় লিমা জাহান (২৫) নামের অন্তঃসত্ত্বা একজনকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে আহত করার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা।
আজ সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। বাউফল পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বাউফল সরকারি কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয় মিছিল। পরে তাঁরা ওই কলেজের মূল ফটকের সামনে সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নারীদের ওপর হামলাকারী ব্যক্তিরা দেশের শত্রু। বিএনপি একদিকে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলছে, অন্যদিকে নারীর ওপর হামলা করছে। এটা নারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
লিমা জাহান জামায়াতের রোকন ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলামের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে বিভিন্ন সড়ক ঘুরছিলেন। বেলা একটার দিকে ভান্ডারি বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের দুজন নেতার নেতৃত্বে মিছিলে হামলা হয়। এতে প্রায় ৪০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে লিমা জাহানের স্বামী জামায়াত নেতা আমিনুলও ছিলেন।
লিমার পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর আহত হওয়ার খবর পেয়ে একটি মোটরসাইকেলে লিমা ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন। বেলা দেড়টার দিকে আ স ম ফিরোজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ এলাকায় পৌঁছালে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসাংগাঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলামের (৩০) নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে লিমাকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে আহত করেন। ওই সময় মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত লিমাকে উদ্ধার করে ট্রলারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।
তবে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে তিনি (লিমা) আহত হয়েছেন। তিনি কোনো হামলা কিংবা লাথি মেরে আহত করেননি।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. বেল্লাল ব্যাপারী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীও এর সঙ্গে জড়িত না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুর রউফ বলেন, যেহেতু তিনি (লিমা) অন্তঃসত্ত্বা, তাই অধিকতর গুরুত্ব সহকারে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় লিমা জাহান আজ দুপুরে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
বাউফল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবশ্যই এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।