নারীদের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি সাবিরা সুলতানার

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নারীরা। রোববার সকালেছবি: প্রথম আলো

গাঁদা ফুলের মালা হাতে মঞ্চের পাশে অপেক্ষা করছেন বাসন্তী পালসহ কয়েকজন নারী। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মঞ্চের কাছে পৌঁছান যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতান। তাঁর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন বাসন্তী পাল। অন্যরা গলা জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

খুলনা বিভাগে বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী সাবিরা সুলতানার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রোববার ঝিকরগাছা উপজেলার পদ্মপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে এ দৃশ্য দেখা যায়।

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নে অন্তত আটটি উঠান বৈঠক ও নারী সমাবেশে বক্তৃতা করেন সাবিরা সুলতানা। প্রতিটি সভায় যোগ দিয়ে নারীদের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পদ্মপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের সমাবেশে নারীদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে সাবিরা সুলতানা বলেন, ‘বৈবাহিক সূত্রে আমি এই পদ্মপুকুরের বউমা। পদ্মপুকুরের সঙ্গে আমার নাড়ির সম্পর্ক। হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সবাই আমার আপনজন। এখানে কোনো দলাদলি বা রাজনৈতিক ভেদাভেদ নেই। আপনারা যত যা–ই করেন, আমাকে পদ্মপুকুর থেকে আলাদা করতে পারবেন না। আমি আপনাদের কাছে বারবার ফিরে আসবই। আপনাদের কাছে আমি ধানের শীষে ভোট চাইতে আসিনি। আমাকে নির্বাচনে জয়ী করার দায়িত্ব আপনাদের। কারণ, আমি আপনাদের মানুষ, শহীদ নাজমুল ইসলামের স্ত্রী।’

বক্তৃতা চলাকালে কোলের শিশু নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ান একজন নারী। ছবি তুলতে চান। সাবিরা সুলতানা ক্যামেরাম্যানকে ডেকে তাঁর সঙ্গে ছবি তোলেন। এরপর বক্তৃতা শেষ করে তিনি নারীদের সারিতে গিয়ে বসেন। সেলফি তুলতে তরুণীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। অনেকে সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন।

সমাবেশ শেষে সাবিরা যখন বের হচ্ছিলেন, তখন ষাটোর্ধ্ব মমতা সরকার তাঁকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে কিছু বলেন। কী বলেছেন জানতে চাইলে মমতা সরকার বললেন, ‘আমার কোনো ঘর নেই। সেই কথাটা কানে কানে তাঁকে (সাবিরা সুলতানা) বললাম। ক্ষমতায় গেলে তিনি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।’

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় দোস্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বক্তৃতা করেন সাবিরা সুলতানা। তিনি মঞ্চ ছেড়ে নারীদের সামনে গিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’-এর নমুনা হাতে নিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন।

নারী ও শিশুদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা। রোববার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

বক্তৃতা শেষে সাবিরার গাড়িবহর মির্জাপুর গ্রামে যায়। সেখানে উঠান বৈঠকে প্রবেশের পথে একদল শিশু তাঁকে জড়িয়ে ধরে। সাবিরা তখন স্লোগান দেন, ‘আমরা যদি ভোটার হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম।’

সারি বেঁধে রেলগাড়ির মতো করে শিশুদের কাঁধে হাত দিয়ে উঠান বৈঠকে প্রবেশ করেন সাবিরা। তিনি বলেন, ‘আমি নারী। নারীদের জন্য আমার স্পেশাল অনেক কিছু করার আছে। নারীরা আমার কাছে গিয়ে তাদের হৃদয়ের কথা প্রাণ খুলে বলতে পারবেন। তাঁদের সহযোগিতার জন্য আমার দুয়ার সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে।’

জামায়াতের সমালোচনা করে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে ব্যবহার করছে। তারা বলছে,“দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে আল্লাহ খুশি হবে।” কিন্তু আল্লাহর কি কোনো প্রতীক আছে? নির্বাচন করতে গিয়ে তারা সগিরা গুনাহ ও শিরক করছে।’

জামায়াতের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের সমালোচনা করে বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তিনি ডাক্তার হয়েছেন। তিনি কোনো দিন কোনো মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, কেউ বলতে পারবেন? তিনি ৩৬ বছর লন্ডনে থেকে ব্রিটিশদের সেবা করেছেন। অথচ আমরা এ দেশের জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েছি। কারাবরণ করেছি। এমনকি আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। আর এখন সুসময়ে তিনি এসে জনগণের জন্য অনেক কিছু করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এটা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য?’

সাবিরা সুলতানা ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। খুলনা বিভাগের বিএনপির এবং যশোরের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ লড়াই করছেন।