দুই কাতলা ধরে জিতে নিলেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা

৫ কেজি ৪০৫ গ্রাম ওজনের একটি এবং ৩ কেজি ৮৯৫ গ্রাম ওজনের আরেকটি কাতলা মাছ ধরে মাছ শিকার প্রতিযোগিতায় প্রথম ও তৃতীয় পুরস্কার জিতে নিয়েছেন আবদুল হান্নান। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়ার বিরেশ দিঘিতেছবি: প্রথম আলো

শুক্রবার ভোর সাড়ে ছয়টায় ২৬ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন আবদুল হান্নান। দিনটি যেন তাঁরই ছিল। তিনি একাই ধরলেন দুটি বড় কাতলা, জিতে নিলেন প্রথম ও তৃতীয় পুরস্কার। মোট অর্থ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এই শৌখিন মাছশিকারি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়ার বিরেশ দিঘিতে আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত বড়শি (ছিপ) দিয়ে শৌখিন মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

পৌনে তিন একর দিঘিটির মালিক সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়ার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর পরিবার। ওই পরিবারের কাছ থেকে সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প নামের একটি সমিতি দিঘিটি বন্ধক নিয়েছে। ওই সমিতি দিঘিটিতে প্রতিবছর কয়েকবার মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

সমিতি–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ২৪টি আসনে (মাচা) ৪৮ জন শৌখিন মৎস্যশিকারি অংশ নেন। তাঁদের আসন নির্ধারণ করা হয় লটারির মাধ্যমে। প্রতিটি আসন থেকে ২৬ হাজার টাকা করে আয়োজকদেরকে প্রদান করতে হয়েছে। প্রতিযোগীদের জন্য ছিল ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকার ৬টি পুরস্কার। এ ছাড়া ছিল সান্ত্বনা পুরস্কার।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ মাছের খাবার প্রস্তুত করছেন, কেউ দিঘিতে বড়শি ফেলছেন। হঠাৎ হঠাৎ মাচা থেকে জোরেশোরে আওয়াজ উঠছে। ‘বড় মাছ’, ‘বড় মাছ’ বলে হইহুল্লোড় করছেন শিকারি ও তাঁদের লোকজন।

মাছশিকারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি আসনে মাছ ধরতে টিকিট ছাড়া আনুষঙ্গিক আরও ১০–১২ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। আসনের মালিকদের অনেকে ভাড়া করে শিকারি নিয়ে এসেছিলেন। ভাড়াটেপ্রতি শিকারিকে দিতে হয়েছে ৩ হাজার টাকা করে। আর পুরস্কার পেলে ভাড়াটে শিকারিকে দিতে হয় পুরস্কারের ১০ শতাংশ টাকা।

দুটি পুরস্কার জিতে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা পেয়েছেন আবদুল হান্নান
ছবি: প্রথম আলো

বিরেশ দিঘিতে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা থেকে আসা ৪৮ জন মাছ শিকার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা দেখতে দিঘির চারদিকে অনেক দর্শকের সমাগম ঘটে।

এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের স্বল্পনোয়াগাঁও গ্রামের আবদুল হান্নান ৫ কেজি ৪০৫ গ্রাম ওজনের একটি এবং ৩ কেজি ৮৯৫ গ্রাম ওজনের আরেকটি কাতলা মাছ শিকার করে প্রথম ও তৃতীয় হন। প্রথম পুরস্কার হিসেবে তিনি ১ লাখ ৮০ হাজার আর তৃতীয়টির জন্য ৫০ হাজার টাকা পান। মোট পুরস্কার হিসেবে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জিতে নেন হান্নান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘একাই প্রথম ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছি। ভালোই লাগছে।’

মাছ শিকারে ব্যস্ত শৌখিন মাছ শিকারিরা
ছবি: প্রথম আলো

এ ছাড়া কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দী গ্রামের আবদুল মোমেন ৪ কেজি ৫১০ গ্রাম ওজনের কাতলা মাছ শিকার করে দ্বিতীয় পুরস্কার জিতে পেয়েছেন ৯০ হাজার টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের মেড্ডা এলাকার জামাল হোসেন ৩ কেজি ৪৯০ গ্রাম ওজনের কাতালা শিকার করে চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৪০ হাজার টাকা।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকার সাইদুল হোসেন ৩ কেজি ৫৫ গ্রাম ওজনের কাতলা মাছ শিকার করে পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৩৫ হাজার টাকা।
সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি আলী মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, এখানে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়। এটি এ বছরের ষষ্ঠ আয়োজন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শৌখিন মৎস্যশিকারিরা এখানে অংশগ্রহণ করে থাকেন।