২ সদস্যের ভিজিএফের বাছাই কমিটি; একজন বিএনপি নেতা, অন্যজন নেতার স্ত্রী

লালমনিরহাট জেলার মানচিত্র

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য ১২টি ইউনিয়নে দুই সদস্যের বাছাই কমিটি করা হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে ‘দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তির’ সমন্বয়ে করা কমিটিতে একজন পুরুষ সদস্য ও একজন নারী সদস্য রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পুরুষ সদস্যরা হলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা। আর নারী সদস্য হিসেবে যাঁরা জায়গা পেয়েছেন, তাঁরা বিএনপি নেতাদের স্ত্রীরা।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন হক গত ৫ মার্চ এসব কমিটির অনুমোদন দেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে কার্ডপ্রতি ১০ কেজি চাল বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। ভিজিএফের তালিকা প্রণয়ন সাপেক্ষে চলতি মার্চ মাসের ১৪-১৫ তারিখ থেকে এসব চাল বিতরণের কথা রয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

তালিকা থেকে জানা গেছে, উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের বাছাই কমিটিতে পুরুষ সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বড়খাতা গ্রামের মো. আবদুর রহমানকে। নারী সদস্য হিসেবে আছেন রাভানা বেগম। আবদুর রহমান বড়খাতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। রাভানা বেগমের বাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব সারডুবি গ্রামে। তাঁর স্বামী মোবাইদুর রহমান (মিঠু) বড়খাতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাছাই কমিটির পুরুষ সদস্য মো. তাহের উদ্দিন এবং নারী সদস্য কামরুন্নাহার বেগম। এর মধ্যে তাহের উদ্দিনের দলীয় পদ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কামরুন্নাহার বেগমের স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম গড্ডিমারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক। সিংগীমারী ইউনিয়নের কমিটিতে আছেন সাইফুল ইসলাম আলম ও হোসনে আরা। সাইফুল ইসলাম হাতীবান্ধা উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আর হোসনে আরার স্বামী আবদুল মোতালেব সিংগীমারী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব। টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কমিটিতে পুরুষ সদস্য মতিউর রহমান ও নারী সদস্য নাছরিন ফারহানা সোহাগের। তাঁর স্বামী পূর্ব বেজগ্রামের শাহ নুরনবী কাজল হাতীবান্ধা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।

সিন্দুর্না ইউনিয়নের বাছাই কমিটিতে আছেন মো. সাইফুল ইসলাম ও শাহানাজ পারভীন। সাইফুল সিন্দুর্না ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব। শাহানাজ পারভীনের স্বামী পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের আবদুস ছালামও বিএনপির রাজনীতি করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে দলীয় পদ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের কমিটিতে পুরুষ সদস্য হিসেবে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম। নারী সদস্য হিসেবে আছেন দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মো. রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাপলা বেগম। ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের কমিটিতে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ারুল কবির ওয়াশিমের স্ত্রী মাকতুবা ওয়াশিম বেলি।

হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মোশাররফ হোসেন কমিটিতে থাকা বিএনপি নেতাদের পদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে রাজি হননি।

প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পাওয়া নাম থেকে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে কারও কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে পেরেছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের নামে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে নাম পরিবর্তন করা হবে। এর বেশি তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।