বুধবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতাদের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় দলীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। শহরের টেম্পল সড়কের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়েই ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের শাখা কার্যালয়। কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়ায় করণীয় ঠিক করতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমানের বাসভবনে এ সভা ডাকা হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলানোসহ অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ও করণীয় ঠিক করতে ওই সভা ডাকা হয়েছে।
আল রাজি জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলানোসহ অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ও করণীয় ঠিক করতে ওই সভা ডাকা হয়েছে।

পদবঞ্চিত নেতারা বৃহস্পতিবারও আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদকের নিন্দা

বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে পদবঞ্চিত নেতা ও তাঁদের সমর্থকদের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করায় ও আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান।

সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাগেবুল আহসান উল্লেখ করেন, ‘দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অসৌজন্যমূলক স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ছাত্রলীগ ছাড়াও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় আছে। ভবনের দ্বিতীয়তলায় কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয় আছে। আন্দোলনকারীদের মনে রাখতে হবে, ছাত্রলীগের প্রত্যেক কর্মী ত্যাগী। কিন্তু সবাইকে পদ দেওয়ার সুযোগ নেই। ছাত্রলীগ চলে নিজস্ব গঠনতন্ত্রে। অভিভাবক হিসেবে ছাত্রলীগকে শুধু দেখভাল করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতাকে অসৌজন্যমূলক গালিগালাজ করায় নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি।’

বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ সমাবেশ চলবে

তৃতীয় দিনের মতো আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে শহরের সাতমাথায় টেম্পল সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সামিয়ানা টানিয়ে অবস্থান নেন পদবঞ্চিত নেতারা। তাঁরা দিনভর বিক্ষোভ করেন। অবস্থান কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছাড়াও বগুড়া সদর উপজেলা ও শহর ছাত্রলীগ, সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগ ও সরকারি শাহ সুলতান কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন। তাঁরা থেমে থেমে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি সজীব সাহা ও সাধারণ সম্পাদক আল-মাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে দুপুরের দিকে শহরের সাতমাথা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে রাত সাড়ে আটটায় সমাবেশস্থল থেকে নতুন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী তৌহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অযোগ্য কমিটি বাতিল ঘোষণা না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।

দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলানোর বিষয়ে তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তালা ঝুলানো হয়নি। ছাত্রলীগের কার্যালয়ে তালা ঝুলানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে আসতেই পারেন। কিন্ত বিতর্কিত কমিটির কোনো ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়ে কেউ কার্যালয় দখলের চেষ্টা করলে, তা প্রতিহত করা হবে।’