চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বন্ধ’ হলে ছাত্রলীগের তালা

আবদুর রব হল
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে। অথচ এর মধ্যেই নির্দেশনা না মেনে হলে অবস্থান করছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। নানা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার একটি হলের প্রধান ফটকে তালাও দিয়েছেন তাঁরা।

বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবদুর রব হলে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল পাঁচটায় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তালা খুলে দেন।

তালা দেওয়া নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হকের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। তাঁদের অভিযোগ, হলের পানির চৌবাচ্চা পরিষ্কার করা হয় না। এর ফলে ময়লা পানি শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করেন। এ ছাড়া হলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। হলের খাবারের মানেরও অবনতি হয়েছে। এর প্রতিবাদে তাঁরা তালা দিয়েছেন।

এর আগে গত ১৯ জুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ২৫ জুনের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, হলের পানির সমস্যা, খাবারের সমস্যাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে তাঁর অনুসারীরা হলে তালা দিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। পরে তিনি তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন।

হল বন্ধ থাকার পরও কীভাবে তাঁর অনুসারীরা হলে অবস্থান করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল বলেন, তাঁর অনুসারী অনেকেরই সামনে পরীক্ষা। এ কারণে হলে অবস্থান করছেন। যেহেতু শিক্ষার্থীরা হলে রয়েছেন, তাই কর্তৃপক্ষকে সুপেয় পানি, খাবারসহ বিভিন্ন সেবা দিতে হবে।

জানতে চাইলে শহীদ আবদুর রব হলের প্রাধ্যক্ষ দানেশ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, হল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও মানবিক কারণে অনেককে থাকতে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক।  তাৎক্ষণিকভাবে এসব সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে গত বছর কয়েক দফা ক্যাম্পাস অবরোধ করে ছাত্রলীগ। এ পরিস্থিতিতে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ছাত্রদের এ বিষয়ে সতর্ক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগত কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর, কার্যালয় বা ফটকে তালা দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূরুল আজিম সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা তালা দিয়েছেন, তাঁরা অন্যায় করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে দাবিদাওয়া সমাধান করা যেত। বিষয়টি তিনি দেখছেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।